ব্রিকসের মঞ্চে মোদী-জিনপিং-পুতিনের চমক, বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!
বার্তা ডেস্কঃ
September 13, 20265:33 am
নয়াদিল্লি: বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণের মাঝেই নতুন দিল্লিতে জমকালো সূচনা হলো ‘ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬’-এর। সম্মেলনের শুরুতেই ভারত, রাশিয়া ও চিনের রাষ্ট্রপ্রধানদের সৌহার্দ্যপূর্ণ ছবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে এক জোটে হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির মধ্যকার সুসম্পর্কের প্রতীক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিশেষ মুহূর্তের ছবিটি নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। ফ্রেমটিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রবোও সুবিয়ান্তোকেও দেখা গিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও টানাপোড়েনের আবহে আয়োজিত এই সম্মেলন থেকে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য জোরালো সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আরও কার্যকরী ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। উন্নয়নশীল দেশগুলিকে কেবল মতামত জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বমঞ্চে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল প্রক্রিয়ায় অংশীদার করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে ভারত নীতি-নির্ধারকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত বলেও জানান মোদী।
সম্মেলনের অন্যতম বড় সাফল্য হলো সদস্য দেশগুলির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ‘দিল্লি ঘোষণাপত্র’ গ্রহণ। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষির পর ঐতিহাসিক এই ঘোষণাপত্রে একমত হয় সব পক্ষ। এতে সন্ত্রাসবাদের কড়া নিন্দা করার পাশাপাশি যেকোনো ধরণের একতরফা যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। নানা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং কোনো দেশই এতে আপত্তি জানায়নি।
সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার ভোরে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং বিকেলে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দিল্লিতে এসে পৌঁছান। বহু পাক্ষিক এই বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যা বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখবে।