একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় উর্দি গায়ে ‘ইনশাল্লাহ’ বিতর্ক? আড়াই মাসেই বদলি খড়গপুরের আইপিএস বুশরা বানো
বার্তা ডেস্কঃ
September 16, 20267:40 pm
খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে মাত্র আড়াই মাসের মাথায় বদলি করা হলো আইপিএস আধিকারিক ডঃ বুশরা বানোকে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে এই রদবদলকে ‘জনস্বার্থে’ করা বদলি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, প্রশাসনিক অন্দরে একে ঘিরে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। বুশরা বানোকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের (SAP) চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে পাঠানো হয়েছে।
ভিডিও ঘিরে বিতর্কের নেপথ্যে
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আইপিএস বুশরা বানোকে সরকারি উর্দিতে নিজের ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষার সাফল্যের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে দেখা যায়। ভিডিওটির শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাল্লাহ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন এবং প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির (AMU) কোচিং অ্যাকাডেমির অবদানের প্রশংসা করেন।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামের একটি সংগঠন সরকারি পদে থাকা আধিকারিকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্য স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ জানায়। নেটিজেনদের একাংশও সরকারি পোশাকে এই ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও নীরবতা
ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা ‘ইনশাল্লাহ’ বলার কারণে একজন মুসলিম আইপিএস আধিকারিককে বদলি করা হলে তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তবে রাজ্য সরকার এই বদলিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলেই দাবি করেছে এবং ডঃ বুশরা বানো নিজে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
অধ্যাপনা থেকে আইপিএস: বুশরার লড়াই
উত্তরপ্রদেশের কনৌজে জন্ম নেওয়া বুশরা বানো আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বিবাহের পর কিছুদিন সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সেবায় যোগ দিতে চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরেন এবং সংসার ও দুই সন্তানের দায়িত্ব সামলেই প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।
- ২০১৮ ইউপিএসসি: সর্বভারতীয় ২৭র্থ স্থান অর্জন (রেলওয়ে সার্ভিস পেলেও যোগ দেননি)।
- ২০১৯ ইউপিএসসি: সর্বভারতীয় ২৩৪তম স্থান অর্জন করে আইপিএস লাভ।
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে যোগ দেওয়ার পর ২০২৬ সালের জুনে তিনি খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। সেখান থেকে আড়াই মাসের মাথায় এই রদবদল এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়।