দল নয়, প্রতিনিধিই আসল! শিবসেনা মামলায় বিস্ফোরক সুপ্রিম কোর্ট
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 202612:55 pm
জাতীয় রাজনীতিতে দল ভাঙানো ও প্রতীক দখল নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। শিবসেনা প্রতীক সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল— “ভোটাররা রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন, কোনও নির্দিষ্ট প্রতিনিধিকে নয়।”
মামলার প্রেক্ষাপট: শিবসেনা বিভাজনের পর একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর হাতে মূল ‘তির-ধনুক’ প্রতীক তুলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন উদ্ধব ঠাকরে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল।
শীর্ষ আদালতের মূল প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ:
- জনপ্রতিনিধির আনুগত্য ও জনমত: বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, এক দলের টিকিটে জিতে পরে প্রতিনিধি আনুগত্য পাল্টালে, সেই ভোটগুলোকে আদৌ তাঁর বা তাঁর নতুন দলের প্রাপ্ত ভোট বলা যায় কি না।
- ‘তৃতীয় বিকল্প’ ভাবনা: সুপ্রিম কোর্ট ইঙ্গিত দেয়, উভয় পক্ষকে আলাদা দুটি নতুন প্রতীক দিয়ে মূল সংরক্ষিত প্রতীকটি আপাতত স্থগিত (Freeze) রাখার মতো কোনও ‘তৃতীয় বিকল্প’ বিবেচনা করা যেত কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
- কমিশনের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা: শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে যে, তারা নির্বাচন কমিশনের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে না। তবে কমিশন সবদিক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কি না, তা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার এক্তিয়ার আদালতের রয়েছে।
শিন্ডে শিবিরের যুক্তি: শিন্ডে শিবিরের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী নীরজ কিষান কউল দাবি করেন, কমিশন শুধু বিধায়কদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়নি। মোট প্রাপ্ত ভোট, ভোটের হার এবং দুই শিবিরের রাজনৈতিক শক্তি বিচার করেই এই রায় দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ: আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ঠিক কী হতে পারে, তা নিয়ে আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।