হাঁড়িকাঠে গলা বাড়ালাম কেন? দুই কেন্দ্রে প্রার্থী-ফ্যাসাদে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ!
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 20266:35 pm
উপনির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চরম বিড়ম্বনা ও অস্বস্তিতে পড়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই পরিস্থিতিতে মুখ বুজে না থেকে দলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার অভাব নিয়ে প্রকাশ্যে গর্জে উঠলেন কুণাল ঘোষ।
নন্দীগ্রামে ভুল সিদ্ধান্তের খাঁড়া
নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে আচমকা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ জানান, সঞ্চিতা মাসদুয়েক আগে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তিনি নেত্রীর কাছে সেই নাম সুপারিশ করেননি। কুণালের সাফ বক্তব্য, “প্রার্থী ঘোষণার আগে দলে আলোচনা হলে শুরুতেই বারণ করতাম। নন্দীগ্রামে কিছু তথাকথিত বিজ্ঞ নেতা সংগঠনকে শেষ করে দিয়েছেন। এখন আগে ঘর সাজানো দরকার।”
“শুভেন্দুকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, দায় আমাদেরই”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে পরবর্তীতে তা মুছে ফেললেও সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন কুণাল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ওরা হাঁড়িকাঠ পেতে রেখেছিল, আর আমরা গিয়ে গলাটা রেখে এলাম কেন?” কুণালের মতে, দুই কেন্দ্রে যেভাবে দলের মুখ পুড়ল, তার জন্য শুধু শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপিকে দোষ দিলে চলবে না। নিজেদের ভুল ও অদূরদর্শিতার দায় নিজেদেরকেই নিতে হবে।
রেজিনগরেও সকাল-বিকেলের নাটক
অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে রেজিনগরেও। সকালে তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বললেও, বিকেলে এক নাটকীয় মোড়ে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দেন তিনি লড়াই করছেন।
দুই কেন্দ্রে প্রার্থী নিয়ে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ কুণাল ঘোষ তৃণমূলের অন্দরের পরিকল্পনার অভাবকেই মূলত কাঠগড়ায় তুলেছেন। তবে সংগঠন বা সিদ্ধান্তের জায়গায় খামতি থাকলেও, সাধারণ মানুষের পূর্ণ সমর্থন যে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে—সে কথা জোর গলায় মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।