দ্বিতীয় স্ত্রীর চরম আক্রোশ! ঘুমন্ত স্বামীকে কুপিয়ে ট্রাঙ্কে ভরলেন স্ত্রী
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 20268:18 pm
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরকীয়ার জেরে মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল লখনউয়ের বাসিন্দা রামকিশোর বাল্মীকি নামে এক ব্যক্তির। ঘুমন্ত অবস্থাতেই তাঁকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করল দ্বিতীয় স্ত্রী সোফিয়া বানো ও তাঁর প্রেমিক। খুনের পর দেহ ট্রাঙ্কে ভরে খালের ধারে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোফিয়া, তাঁর প্রেমিক মুন্না, সহযোগী ইকবাল এবং সোফিয়ার ১৬ বছরের ছেলেসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরকীয়া থেকেই অশান্তির সূত্রপাত পুলিশ সূত্রে খবর, চার বছর প্রেমের সম্পর্কের পর দু’বছর আগে সোফিয়াকে বিয়ে করেছিলেন রামকিশোর। তবে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই রামকিশোর জানতে পারেন, মুন্না (৫২) নামে এক প্রৌঢ়ের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত সোফিয়া। এই নিয়ে দম্পতির মধ্যে রোজ ঝামেলা লেগে থাকত। পাল্টা হিসেবে রামকিশোরও তাঁর প্রথম স্ত্রী কবিতার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান এবং তাঁকে আর্থিক সাহায্য করা শুরু করেন।
ভয়ঙ্কর খুনের ছক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে রামকিশোরের যোগাযোগ মেনে নিতে পারেননি সোফিয়া। এরপরই প্রেমিক মুন্নার সঙ্গে মিলে স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন তিনি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সোফিয়া তাঁর বাড়িতে ঢোকান প্রেমিক মুন্না ও তাঁর সহযোগী ইকবালকে। সেই সময় রামকিশোর ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থাতেই রামকিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা।
নাবালক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দেহ লোপাট খুনের পর সোফিয়া নিজের ১৬ বছরের ছেলেকে সবটা জানান। এরপর চারজনে মিলে রামকিশোরের রক্তসংক্রান্ত দেহটি একটি স্টিলের ট্রাঙ্কে বন্ধ করে পরদিন গভীর রাতে খালের ধারে ফেলে দিয়ে আসেন। প্রমান নষ্ট করতে ধোয়া হয় রক্তের দাগ এবং লুকিয়ে ফেলা হয় খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র।
সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যভেদ গত ১৭ সেপ্টেম্বর রামকিশোরের প্রথম স্ত্রী কবিতা থানায় সোফিয়া ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে খুনের আশঙ্কা জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রায় ১৮০টি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে খালের ধার থেকে ট্রাঙ্কবন্দি দেহটি উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা।