তারাতলা বিপর্যয়, ২০০০ পাতার চার্জশিটে নড়ল আলিপুর আদালত!
বার্তা ডেস্কঃ
September 20, 20268:25 am
তারাতলা গুদাম বিপর্যয় মামলায় বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল লালবাজার। শনিবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হলো প্রায় ২,০০০ পাতার দীর্ঘ চার্জশিট। তদন্তকারীদের স্পষ্ট দাবি, কোনও একক ভুলের কারণে নয়— নকশা থেকে নির্মাণ, একাধিক স্তরে চরম গাফিলতির অশুভ পরিণতিতেই ঘটেছিল ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যা কেড়ে নিয়েছিল ১৬ জন নিরপরাধ মানুষের প্রাণ।
কারা রয়েছেন অভিযুক্তের তালিকায়? জমা দেওয়া এই বিশাল চার্জশিটে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি (OSD) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল শেখসহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তের তালিকায় থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন— শম্ভুনাথ বেহরা, আব্দুল হামিদ, দিবাকর ভান্ডারি, কমল সামন্ত এবং মহম্মদ গুলজ়ার। দুর্ঘটনার পর তদন্তের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এদের সকলকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত ও বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তের সময় নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব না হলেও গুদাম নির্মাণের অনুমোদনের পেছনে আর্থিক লেনদেনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। গত ২৪ জুন তারাতলায় ওই নির্মীয়মাণ কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। নির্মাণের নকশায় গাফিলতি ছিল কি না এবং কী মানের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দলকে কাজে লাগানো হয়। তাঁদের সরজমিনে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও স্থান পেয়েছে এই চার্জশিটে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও তৎকালীন বিতর্ক বিপর্যয়ের পর থেকেই এই ঘটনা ঘিরে তুঙ্গে ওঠে রাজনৈতিক তরজা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি কলকাতার তৎকালীন মেয়রের দপ্তরের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই গুদামের নকশায় পুরসভা অনুমোদন দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ জানান, ‘কালীচরণ না-বললে পুরসভায় কোনও প্ল্যান পাস হতো না।’ ওই মন্তব্যের পর পরই গ্রেফতার হন কালীচরণ। এবার পুলিশের পেশ করা এই ২০০০ পাতার চার্জশিট আদালত কক্ষে বিচার প্রক্রিয়াকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর সকলের।