কখনও ডাক্তার, কখনও অটোচালক! ভুয়ো ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার মডেল!
বার্তা ডেস্কঃ
September 20, 20268:28 am
কলকাতা: কখনও নামজাদা চিকিৎসক, কখনও অটোচালক, আবার কখনও জিম মালিক— পেশা যাই হোক না কেন, টার্গেট করলেই কেল্লাফতে! একের পর এক পুরুষকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কোটি টাকা আদায়ের ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল কলকাতার এক তরুণীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিন নজর রাখার পর সন্তোষপুরের বাড়ির সামনে থেকেই ৩১ বছরের ওই মডেলকে গ্রেফতার করল পঞ্চসায়র থানার পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশের চোখ চড়কগাছ! পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৪ জন পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার ১১টি ভুয়ো মামলা দায়ের করেছেন ওই তরুণী।
কীভাবে চলত ব্ল্যাকমেইলিং চক্র? পুলিশ জানিয়েছে, সন্তোষপুরের বাসিন্দা অভিযুক্ত তরুণী নিজেকে মডেল হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিভিন্ন পেশার পুরুষদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করে কিছুদিন পরেই রূপ বদলে ফেলতেন তিনি। সোজা জানিয়ে দিতেন— কথা মতো টাকা না দিলে দেওয়া হবে ধর্ষণের মামলা! ভয়ের চোখে অনেকেই টাকা দিয়ে নিস্তার পেতেন। এমনকি ২০২১ সালের অক্টোবরে নিজের জন্মদাতা বাবার বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন এই তরুণী!
ডাক্তারকে ফাঁদে ফেলতেই ফাঁসলো ছক: চলতি বছরের জানুয়ারিতে পঞ্চসায়রের এক চিকিৎসকের সন্তোষপুরের চেম্বারে যান ওই তরুণী। এর পর থেকেই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি। চিকিৎসক টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেন তরুণী, যার ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করে।
তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসকের স্ত্রী আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি আদালতে স্পষ্ট জানান, চক্রান্ত করে তাঁর স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। আলিপুর আদালতের নির্দেশে পঞ্চসায়র থানা পুনরায় তদন্তে নামে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তরুণীর অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি বিপদের আঁচ পেয়ে চিকিৎসক আগেই পূর্ব যাদবপুর থানায় নিজের সুরক্ষার কথা জানিয়ে একটি জিডি (GD) করে রেখেছিলেন।
শহরের একের পর এক থানায় জালের বিস্তার: তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, শহরের প্রায় অর্ধেকের বেশি এলাকায় একই কায়দায় বহু মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এই তরুণী।
- প্রভাবিত এলাকা: সার্ভে পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর, কসবা, রিজেন্ট পার্ক, যাদবপুর এবং গল্ফগ্রিন।
- ভুক্তভোগী: অন্তত ১৪ জন পুরুষ তাঁর ফাঁদে পড়েছেন, যার মধ্যে দু’জন ভুক্তভোগী আগেই তরুণীর বিরুদ্ধে লিখিত তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
সন্তোষপুরের বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতারের পর তরুণীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ। এই চক্রে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।