তরুণীকে গণধর্ষণ! বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন পুলিশকর্তা পলাতক, নিখোঁজ সিসিটিভি কেয়ারটেকারও!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 20261:38 pm
থানে: মহারাষ্ট্রে ২২ বছরের এক বিবাহিত তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে চরম অস্বস্তিতে ক্ষমতাসীন শিবির। অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র পাওয়ার এবং তাঁর সহযোগী, বরখাস্ত হওয়া প্রাক্তন পুলিশকর্তা শৈলেশ পাতিল। ঘটনার পর থেকেই দু’জন পলাতক। রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে থানের পাঢঘায় অবস্থিত সেই ফার্মহাউসের সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (DVR) এবং ফার্মহাউসের কেয়ারটেকারও।
লুকোচুরি অভিযুক্তদের, বিমানবন্দরে সতর্কবার্তা অভিযুক্তদের ধরতে ইতিমধ্যেই তিনটি বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ। তারা দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে মুম্বই বিমানবন্দর ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (Immigration) সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। থানে গ্রামীণের ডেপুটি পুলিশ সুপার রাহুল জ়ালটে জানান, “ঘটনার দুই দিন পর নির্যাতিতা অভিযোগ দায়ের করেন। সম্ভবত সেই সুযোগেই অভিযুক্তরা সিসিটিভি ফুটেজ ও যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলেছে। কেয়ারটেকারেরও খোঁজ চালানো হচ্ছে।”
সাহায্য চাইতে গিয়েই ভয়াল অভিজ্ঞতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিজেপি নেতা নরেন্দ্র পাওয়ারের কাছে সাহায্যের জন্য যান ওই তরুণী। অভিযোগ, সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে পাঢঘার ফার্মহাউসে নিয়ে যান নরেন্দ্র। সেখানে তিনি এবং প্রাক্তন পুলিশকর্তা শৈলেশ পাতিল তরুণীর ওপর নির্যাতন চালান। এমনকী, তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কংগ্রেস নেত্রী কাঞ্চন কুলকার্নির সহায়তায় থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী।
অপরাধে মোড়া প্রাক্তন পুলিশকর্তার অতীত ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসতেই শৈলেশ পাতিলের একাধিক অপরাধের খতিয়ান প্রকাশ্যে আসছে। ২০২০ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া এই পুলিশকর্তার সঙ্গে আবু সালেম ও সুভাষ ঠাকুর গ্যাংয়ের মতো গ্যাংস্টারদের যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।
- ২০১০: আয়কর রিফান্ড কেলেঙ্কারিতে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন শৈলেশ।
- ২০১৫: এক দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিককে চরম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
- অন্যান্য: প্রোমোটারদের হুমকি দেওয়া, জমি হাতানোর জন্য নিজ মাতাকে ভয় দেখানো এবং বেআইনি কল সেন্টার চক্র চালানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এমনকী শৈলেশের নিজের মা প্রধানমন্ত্রী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে জানান যে, তাঁর ছেলের কাছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং ছেলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মানসিক যন্ত্রণাতেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে এই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল দুই অভিযুক্তকে ফাঁদে ফেলতে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।