EMI বাউন্স হয়েছে? CIBIL স্কোর বাঁচাতে এখনই করুন এই ৪ কাজ!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 20262:25 pm
মাসের শেষে অ্যাকাউন্টে টানাটানি, আর ঠিক সেই সময়েই অটো-ডেবিটে EMI বাউন্স! ফোনে ‘Insufficient Funds’-এর মেসেজ আসা মাত্রই রক্তচাপ বাড়ে অনেকের। মাথায় প্রথম যে চিন্তাটা ঘোরে—”তাহলে কি আমার CIBIL স্কোর এক ধাক্কায় শেষ?”
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে বিষয়টি হাল্কাভাবে নেওয়াও মারাত্মক ভুল হতে পারে।
একবার EMI বাউন্স হলেই কি CIBIL শেষ?
সোজা কথা—প্রভাব নিশ্চিতভাবেই পড়ে, তবে কতটুকু ক্ষতি হবে তা নির্ভর করছে আপনি পেমেন্ট মেটাতে কতদিন দেরি করছেন তার ওপর। ব্যাঙ্ক বা NBFC সাধারণত ৩০ দিনের সাইকেলে CIBIL-এ রিপোর্ট পাঠায়:
- ১ থেকে ২৯ দিন দেরি: বেশিরভাগ ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই সময়ের মধ্যে টাকা মেটালে CIBIL-এ বড় নেগেটিভ প্রভাব পড়ে না। তবে লেট পেমেন্ট ফি এবং ২৪% থেকে ৩৬% পর্যন্ত পেনাল্টি সুদ গুনতে হবে। সতর্কতা: Bajaj Finance বা IDFC-র মতো কিছু প্রাইভেট NBFC ৭ দিন দেরি হলেও রিপোর্ট পাঠাতে পারে।
- ৩০ দিনের বেশি দেরি (30+ DPD): আসল বিপদ শুরু এখানেই। রিপোর্টে ’30 DPD’ লেখা পড়লেই আপনার CIBIL স্কোর এক ধাক্কায় ৭০ থেকে ১০০ পয়েন্ট কমে যেতে পারে (যেমন: ৭৫০ থেকে সোজা ৬৮০)।
- ৬০ থেকে ৯০ দিনের বেশি দেরি: ব্যাঙ্ক আপনাকে ‘ডিফল্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করবে। এর ফলে আগামী অন্তত ৩ বছর যেকোনো হোম লোন, পার্সোনাল লোন বা নতুন ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
মনে রাখবেন: EMI বাউন্স হওয়া মানে জোড়া ক্ষতি— একদিকে ব্যাঙ্কের ৪ শত থেকে ৬ শত টাকার বাউন্স চার্জ, অন্যদিকে CIBIL স্কোরের অবনতি।
EMI বাউন্স হলে অবিলম্বে করণীয় ৪টি জরুরি কাজ:
১. ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ম্যানুয়াল পেমেন্ট: আর অটো-ডেবিটের ভরসায় থাকবেন না। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা ফাইন্যান্স অ্যাপে গিয়ে দ্রুত ‘Manual Pay’ করে পেমেন্ট ক্লিয়ার করে দিন। ৩০ দিন পার হতে দেবেন না।
২. ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন: কোনো দ্বিধা না রেখে কাস্টমার কেয়ারে জানান। কারিগরি সমস্যা বা সাময়িক আর্থিক অসুবিধার কথা জানিয়ে প্রমাণস্বরূপ পেমেন্টের স্ক্রিনশট মেইল করুন। ব্যাঙ্ক অনেক সময় CIBIL-এ নেগেটিভ রিপোর্ট পাঠাতে সামান্য ছাড় (Grace Period) দেয়।
৩. ECS/NACH বাউন্স চার্জ মেটান: EMI মিটিয়ে দিলেও ব্যাঙ্ক আলাদাভাবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বাউন্স চার্জ কাটতে পারে, সেটিও পরিষ্কার করে নিন।
৪. ৪৫ দিন পর CIBIL রিপোর্ট চেক করুন: ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে ৪৫ দিন পর রিপোর্ট চেক করে দেখে নিন কোনো ভুল DPD এসেছে কিনা। যদি ৩০ দিনের আগেই পেমেন্ট করে থাকেন অথচ নেগেটিভ দেখায়, তবে তৎক্ষণাৎ ‘CIBIL Dispute Raise’ করুন।
ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে ৩টি সহজ অভ্যাস:
- EMI কাটার মূল তারিখের অন্তত ২ দিন আগেই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখুন।
- সব EMI-এর লেনদেনের জন্য আলাদা একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন।
- অটো-ডেবিটের পাশাপাশি নিজের মোবাইল ফোনে প্রতি মাসের রিমাইন্ডার সেট করে রাখুন।
একবার EMI বাউন্স হওয়া মানেই সুযোগ শেষ নয়, কিন্তু সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এবং এটি অভ্যাসে পরিণত হলে আগামী ৩ বছরের জন্য আপনার ক্রেডিট প্রোফাইল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই প্রথম বাউন্সকেই সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিন।