চোখে কাপড় বেঁধে নন্দীগ্রাম কাণ্ড! শেষ পর্যন্ত কী হলো প্রার্থীর?
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 20262:18 pm
কলকাতা: নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এবার আইনি ধাক্কা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan)। বর্তমানে জেলে থাকা এই কংগ্রেস প্রার্থীর করা মামলায় মঙ্গলবার কোনো হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মিলন প্রধানের রক্ষাকবচের আবেদনে আপাতত কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশের প্রয়োজন নেই। আগামী ১২ অক্টোবর প্রয়োজন অনুযায়ী মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের যুক্তি শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের তরফে আদালতকে জানানো হয়, মিলনের বিরুদ্ধে থাকা মোট ১১টি মামলার মধ্যে ৫টি আগেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও একটি মামলায় তাঁর নাম নেই।
কী ঘটেছিল আগে? প্রায় ১৯ বছরের পুরনো একাধিক ফৌজদারি মামলায় গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর সোমবার হলদিয়া ও কাঁথি—দুটি পৃথক আদালতের নির্দেশে তাঁর জেল হেফাজত হয়।
- হলদিয়া থানা ও নন্দীগ্রাম থানার মামলা: আদালতের নির্দেশে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে থাকবেন তিনি।
- খেজুরি থানার মামলা: কাঁথি মহকুমা আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মিলন প্রধানকে সশরীরে আদালতে হাজির করতে হবে।
অভিযোগের তির ও রাজনৈতিক নাটক ঘটনাচক্রে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে।
এই গ্রেফতারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ তোলেন, “আমাদের প্রার্থীকে গ্রেফতারের আগে চোখে কাপড় বেঁধে ঘুরিয়ে মনোনয়নপত্র তুলে নেওয়ার জন্য লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রার্থী তাঁর হলফনামায় সমস্ত মামলার কথা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন। তা হলে দীর্ঘ ২০ বছর আগের মামলায় ভোটের ঠিক মুখেই কেন এই তৎপরতা? তবে প্রশাসনিক চাপ থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস যে লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বে না, তাও সাফ জানিয়ে দিয়েছে দল।