২ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে তালা ঝুলাল সাফাই কর্মীরা, স্থবির জলপাইগুড়ি!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 20266:25 pm
উৎসবে-হেমন্তের জলপাইগুড়ি শহর এখন চরম নোংরা আর দুর্গন্ধময়। রাজপথ থেকে অলিপথ— সর্বত্র জমছে জঞ্জালের পাহাড়। পুরসভার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংঘাত, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং আইনি জটিলতার চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ বাসিন্দাদের। অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির মাত্র দুই দিনের মধ্যেই পুরো শহর যেন আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
কেন এই অচলাবস্থা? পুরসভা সূত্রে খবর, গত জুলাই মাসের শেষ থেকে শুরু হয় অস্থিরতা। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এবং একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরসভার কাজকর্ম। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানো হলেও, সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কাউন্সিলরদের একাংশ। আদালতের নির্দেশে নতুন বোর্ড গঠনের বৈঠক ডাকা হলেও কোরামের অভাবে তা ভেস্তে যায়। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জাঁতাকলে পিষে যাচ্ছেন প্রান্তিক অস্থায়ী কর্মীরা।
বকেয়া বেতন ও গেটে তালা: গত দুই মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের বেতন। বকেয়া পাওনার দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। পুরসভার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে, বাইরে জঞ্জাল ফেলে শুরু হয় জোরালো বিক্ষোভ। ‘জলপাইগুড়ি সাফাইকর্মী ঐক্য মঞ্চের’ সভাপতি প্রতাপ রাউত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বকেয়া মেটানো এবং স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।
সমাধানের আশায় শহরবাসী: পুরসভার এক্সিকিউティブ অফিসার দেবদুলাল পাত্র পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিলেও, জঞ্জাল দ্রুত সরানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পথ দেখাতে পারেননি। তীব্র দুর্গন্ধে অতীষ্ঠ স্থানীয় বিধায়ক ও শহরবাসীর এখন একটাই দাবি— সমস্ত আইনি ও রাজনৈতিক জট কাটিয়ে অবিলম্বে স্বাভাবিক করা হোক সাফাই ব্যবস্থা।