৬৪টি সরকারি হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার চুরি, স্বাস্থ্য দফতরের কড়া হুঁশিয়ারি!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 20266:42 pm
রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা মজবুত করতে কেনা কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় চরম উদ্বেগ ছড়াল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশন ও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) বরাদ্দে কেনা মূল্যবান যন্ত্রাংশ রাজ্যের ৬৪টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে সমস্ত জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) অবিলম্বে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে দফতর।
স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ১২টি জেলার ৬৪টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এই চুরি বা যন্ত্রাংশ গায়েব হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চুরির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হাওড়া জেলা—একাই হাওড়াতেই ২৫টি কেন্দ্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৮টি সাঁকরাইল এবং ৭টি শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকে অবস্থিত।
২০২১-২২ সালে কোভিড অতিমারির সময় গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জোরদার করতে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পের আওতায় এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা সেই চিকিৎসা সরঞ্জাম কীভাবে উধাও হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। অথচ ২০২৪ সালেও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের তৎকালীন অধিকর্তা চিঠি দিয়ে জেলাশাসক ও সিএমওএইচ-দের এই যন্ত্রাংশের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোগীদের স্বার্থে কেনা এই সম্পত্তি উধাও হওয়া চরম দুর্ভাগ্যজনক। যাঁদের হেফাজতে এই যন্ত্রপাতি রাখা হয়েছিল, দায় তাঁদেরই নিতে হবে। তদন্তে দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মী বা কর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তাঁদের বেতন থেকে টাকা কেটে চুরির ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।