আইআইটি বোম্বে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় অধ্যাপক!
বার্তা ডেস্কঃ
September 23, 20262:22 pm
আইআইটি বম্বের বিটেক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, পুরো ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য একটি ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আইআইটি বম্বের পরিচালন পর্ষদ। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি ও ৩ ছাত্র প্রতিনিধি এই বিশেষ তদন্ত কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন আইআইটি পালাক্কাড়ের পরিচালন পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রমেশ ভেঙ্কটেশ্বরন। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কমিটিতে তিনজন ছাত্র প্রতিনিধিকেও রাখা হয়েছে—হস্টেল বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক আদিত্য যোশী, ছাত্র মেন্টর কর্মসূচির সমন্বয়কারী দেব অরোরা এবং গবেষক দেবী লাল। এছাড়া কমিটির তালিকায় রয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলাসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের স্ক্যানারে ঘটনার দিন ও সিসিটিভি অন্যদিকে, সাহিলের মৃত্যুর জল গড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন পর্যন্ত। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক দুল্লাকে আজই জেরার জন্য তলব করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সাহিলের পিতা-মাতার বয়ান নথিভুক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। ১৮ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার হল এবং হস্টেলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার সময় সাহিল কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, তার ধারাবাহিক তথ্য সাজানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনে ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT) ব্যবহার করার অভিযোগে সাহিলকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে বার করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই হস্টেল থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পরীক্ষার হলের ঘটনার সঙ্গে এই মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জাতিগত হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ পরিবারের সাহিলের পরিবারের দাবি, এটি স্রেফ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সাহিলের মা সোনালী ওয়াকোড়ে অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিকভাবে জাতপাতের কারণে মানসিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার হচ্ছিল। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক দুল্লার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার পাশাপাশি ‘তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন’-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরিবার ইতিমধ্যেই অধ্যাপক দুল্লার পাশাপাশি আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর শিরীষ কেদারের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি করেছে। তবে শিক্ষক মহলের একাংশ এবং আইআইটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অধ্যাপক দুল্লার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো রকম ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না করে নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ দেওয়া উচিত।
ছাত্র আন্দোলন ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সাহিলের মর্মান্তিক পরিণতির পর আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাসে ব্যাপক ছাত্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পড়ুয়ারা বিচার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পরিচালন পর্ষদ জানিয়েছে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অধ্যাপক দুল্লার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আইআইটি বম্বে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবে।