কুণালকে চরম হুঁশিয়ারি দিলীপের, সিপিএম নিয়ে মমতাকেও তুলোধোনা!
September 28, 2026
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 202610:15 am
কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্য রাজনীতিতে সোজাসাপ্টা আক্রমণ দিলীপ ঘোষের। সোমবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে একাধিক সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। কুণাল ঘোষের বারবার আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে এসআরএফটিআই বিতর্ক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান—সব কিছু নিয়েই চাঁচাছোলা জবাব দেন তিনি।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য:
- কুণাল ঘোষের ওপর আক্রমণ প্রসঙ্গে: দিলীপ ঘোষ বলেন, “কুণাল ঘোষ যত বেশি কথা বলবেন, মানুষের রাগ তত বাড়বে। অন্য কোনো নেতা তো ডিম খাচ্ছেন না, উনিই কেন বারবার ছাড় পাচ্ছেন না? ওঁর এবার একটু সাবধানে থাকা উচিত। মানুষ যে রায় দিয়েছে তা মেনে নেওয়াই ভালো। বেলেঘাটায় জিতেও যদি নিজের এলাকাতেই ডিম খেতে হয়, তবে যাবেন কোথায়? রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়লেই মানুষ এসব উল্টোপাল্টা বলে। মিডিয়াই ওঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”
- এসআরএফটিআই-এর ঘটনা ও বহিরাগত প্রবেশ: তাঁর দাবি, “বাংলায় এতদিন ধরে যে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি প্রাক্তন সরকারের আশ্রয়ে ছিল, তারা এখন একে একে প্রকাশ্যে আসছে। দেশের সংস্কৃতি বিরোধী কাজকর্ম আর বরদাস্ত করা হবে না। নকশাল আমলের মূর্তি ভাঙা বা ছবিতে কালি দেওয়ার দিন শেষ, তবে তাদের কিছু উত্তরসূরি এখনো রয়ে গেছে। সেখানে বহিরাগতদের সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
- বোলপুরে বিজেপি বুথ সভাপতির দেহ উদ্ধার: ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, “এখনও বিক্ষিপ্ত হিংসা ঘটছে, যা আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বরাষ্ট্র দফতর বিষয়টি দেখছে এবং আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
- সিপিএম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমীকরণ: দিলীপের কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এখন আর কারও ভরসা নেই। উনি নিজেই মাসে মাসে ভরসা বদল করেন। এখন কাকে ধরে বাঁচবেন, সেটাই দেখার। ওঁর অবস্থা এখন খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো।”
- হরিদেবপুরে ক্লাবে দুষ্কৃতী হামলায় বিজেপির নাম: অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো কিছু ঘটলেই বিজেপির ওপর দায় ঠেলে দেওয়া একটা সহজ উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির এসব কাজের কোনো আগ্রহ নেই। যারা ৫০ বছর ধরে বাংলায় হিংসার রাজনীতি চালিয়ে এসেছে, তাদের চিহ্নিত করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
- ব্যাঙ্ক ধর্মঘট স্থগিত রাখা: “কথায় কথায় ধর্মঘট ডাকা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। ভয় দেখিয়ে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টা বন্ধ হওয়া দরকার।”
- নিতিন নবীনের বঙ্গ সফর: রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উনি কর্মীদের সাথে নিরন্তর বৈঠক করছেন। বাংলায় যেমন পরিবর্তন এসেছে, দলেও পরিবর্তন আসবে। কর্মী ও নেতাদের দায়িত্ব কীভাবে বণ্টন হবে এবং কাজের মানসিকতা কেমন হওয়া উচিত, তার স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।”