আরজি কর কাণ্ডে নয়া মোড়, সিবিআই তদন্তের মাঝে কেন আলাদা এফআইআর? জবাব চাইল হাইকোর্ট!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20261:20 pm
কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) তদন্তে এবার এক নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হলো। মূল ঘটনার তদন্ত যেখানে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের নজরদারিতে সিবিআই (CBI) করছে, সেখানে ঠিক কোন যুক্তিতে খড়দহ থানায় নতুন করে আলাদা এফআইআর (FIR) রুজু করল রাজ্য পুলিশ? এবার খড়দহ থানা এবং রাজ্য সরকারের কাছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।
সম্প্রতি জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং নির্যাতিতার এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তারের পরেই এই পৃথক তদন্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে বিষয়টি থাকা সত্ত্বেও আলাদা করে রাজ্য পুলিশের এফআইআর এবং গ্রেপ্তারি কতটা আইনি সঙ্গত?
হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার ‘ইন-ক্যামেরা’ শুনানি চলাকালীন বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। খড়দহ থানার আইসি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিককে (IO) আগামী ১ অক্টোবর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কোথায়? আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে খড়দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় সেই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরবর্তীতে এই মামলাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্মল ঘোষ ও নির্যাতিতার প্রতিবেশী আপাতত জামিনে ছাড়া পেলেও, জলহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এখনও জেলবন্দি।
সোমনাথ দে-র আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, একই ঘটনার তদন্ত সিবিআই করার পরও আলাদা তদন্ত চালানো হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, খড়দহ থানার অভিযোগটির বিষয়বস্তু মূল ঘটনার পরবর্তী সময়ের কিছু ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই দুটি তদন্তের পরিধি আলাদা।
তবে রাজ্য পুলিশের এই যুক্তিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি ডিভিশন বেঞ্চ। আলাদা এফআইআর-এর আসল প্রয়োজন কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে চায় আদালত। আগামী ১ অক্টোবর খড়দহ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত হয়ে কী উত্তর দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আইনজীবী মহল থেকে শুরু করে আমজনতা।