খাস কলকাতায় প্রাণভয়ে হাইকোর্টে কুণাল, অভিযোগ তুলেই শোরগোল!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20262:05 pm
খাস কলকাতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর প্রাণঘাতী হামলার মুখে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নিজের সুরক্ষার অভাব এবং জীবন সংশয়ের আশঙ্কায় এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি। আদালত তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও, জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আর্জি ফিরিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ।
কী ঘটেছিল রবিবার? শনিবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার সখেরবাজারে আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো ও ডিম ছোড়া হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে ফের বেলেঘাটায় তাঁর ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ নেমে আসে। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চা-চক্রে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ১০-২০টি মোটরবাইক তাঁর পিছু নেয়। ফুলবাগানের কাছে পৌঁছতেই দুষ্কৃতীরা লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে বেপরোয়া ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ, কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে সরাসরি রিভলভারও উঁচিয়ে ধরা হয়। চরম পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে তিনি নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
হাইকোর্টের অবস্থান: হামলার পরপরই কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য হাইকোর্টে জানান যে, বিধায়কের জীবনের চরম ঝুঁকি রয়েছে এবং অনতিবিলম্বে এই মামলার শুনানি করা প্রয়োজন। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দ্রুত শুনানির আবেদন নাকচ করে স্পষ্ট জানান, “এমন বহু বিধায়ক ও সাংসদ মামলা করছেন। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই আইনি প্রক্রিয়ায় শুনানি হবে, কোনো বিশেষ দ্রুত শুনানি সম্ভব নয়।”
‘আমাকে যেকোনো দিন মেরে ফেলবে’—বোমা ফাটালেন কুণাল: ঘটনার পর চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। বাড়ি থেকেই পিছু নেওয়া হয়েছিল। এরা আমাকে যেকোনো দিন মেরে ফেলবে, আপনারা হয়তো একদিন এসে আমার গুলিবিদ্ধ দেহের ছবি তুলবেন! গাড়ির কাচ ভাঙা হচ্ছিল, রিভলভার উঁচিয়ে ধরা হয়—ভাবুন কী পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তাকর্মীকে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র বের করতে হয়েছে।”
সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তিনি যোগ করেন, “বিজেপি আমাকে হত্যা করতে চায়। এ নিয়ে চারবার এমন ঘটল। এই চক্রান্তের পেছনে বিজেপির পাশাপাশি পুলিশেরও একাংশের মদত রয়েছে।” পরপর এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।