দিল্লির নারী নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোপ, শুধু সহমর্মিতায় কাজ হবে না!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20262:00 pm
দিল্লি: দেশের রাজধানী কি তবে ফের মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে? কালকাজি মন্দিরের কাছের পার্ক থেকে শুরু করে গ্রেটার নয়ডাগামী চলন্ত বাস— একের পর এক হাড়হিম করা ঘটনার পর দিল্লির নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। রাজধানীর বুকে পরপর ঘটে যাওয়া এই নৃশংস অপরাধের পর এবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই পরিস্থিতি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপকেই সবার সামনে তুলে ধরছে।
২০১২-র সেই অভিশপ্ত নির্ভয়া কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি? আদালতের শুনানিতে উঠে আসে গ্রেটার নয়ডার পারী চক থেকে দিল্লির কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রমকারী একটি চলন্ত স্লিপার বাসের ঘটনা। ওই চলন্ত বাসের ভেতরেই ১৬ বছরের এক নাবালিকার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায় বাসের চালক ও কন্ডাক্টর। এত বড় একটা পথ অতিক্রম করা সত্ত্বেও কেন পুলিশ বাসটিকে আটকাতে পারল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত একে ২০১২ সালের মর্মান্তিক ‘নির্ভয়া কাণ্ডে’র বেদনাময় পুনরাবৃত্তি বলে আখ্যা দিয়েছে।
এর পাশাপাশি কালকাজি মন্দিরের কাছের আস্থা কুঞ্জ পার্কের ঘটনাও কম ভয়াবহ নয়। সেখানে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে নকল পুলিশ সেজে ভয় দেখিয়ে, অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। যদিও এই ঘটনায় যুক্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবুও শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমছে না।
‘ফাঁকা সহমর্মিতায় সমাধান মিলবে না’, কড়া হুঙ্কার আদালতের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, অপরাধ ঘটার পর শুধু সহমর্মিতা প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। অপরাধ দমন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো সহ পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনকে পূর্ণ জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, পর্যাপ্ত আলোর অভাব বা সিসিটিভি ও পুলিশি টহলের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে শহরের কোনো অংশকেই দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। রাজধানীর বুকে এই ধরণের অপরাধ রুখতে দ্রুত কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।