সিকিমে ফের বড় বিপর্যয়ের আতঙ্ক, ইসরোর সতর্কবার্তায় শিউরে উঠছে পাহাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 202612:22 pm
সিকিমে ২০২৩ সালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও তাজা। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক হড়পা বান এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে এবার আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিল ভারত। ইসরো (ISRO)-র ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (NRSC) উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে দেশের হিমবাহ সংলগ্ন নদী অববাহিকাগুলির একটি বিশদ মানচিত্র তৈরি করেছে।
ইসরোর নজরদারিতে যা উঠে এল:
- ২০১৬-১৭ সালের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে অন্তত ০.২৫ হেক্টর আয়তনের ২৮,০৪৩টি হিমবাহ হ্রদ চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এর মধ্যে ৭,৫৭০টি হ্রদ ভারতের সীমানার ভেতরে এবং ২০,৪৭৩টি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত।
- ভারতের ভেতরের হ্রদগুলির মধ্যে লাদাখে ৩,২১৯টি, অরুণাচল প্রদেশে ২,১৮৮টি, সিকিমে ৭৩৩টি, জম্মু ও কাশ্মীরে ৫৪৬টি, হিমাচল প্রদেশে ৫৩৭টি এবং উত্তরাখণ্ডে ৩৪৭টি হ্রদ রয়েছে।
হঠাৎ আয়তন বৃদ্ধি ও ‘GLOF’-এর ঝুঁকি: ১৯৮৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ৬৭৬টি হ্রদের আয়তন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ১৩০টি হ্রদ ভারতীয় ভূখণ্ডে রয়েছে। গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF (হিমবাহ গলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধ ভেঙে হঠাৎ বিপুল জল নিচে নেমে আসা)-এর কারণে নিচের জনবসতি, ব্রিজ, রাস্তা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিমেষেই ভেসে যেতে পারে।
পাঠ নেওয়া হয়েছে লোনার্ক বিপর্যয় থেকে: ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর সিকিমের দক্ষিণ লোনার্ক হ্রদে বিশাল হিমবাহ ধসে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনমিটার জল ও ২৭০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি তিস্তা নদীতে নেমে এসে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। গবেষণা বলছে, সেই বিপর্যয়ের আগে থেকেই হ্রদটির গঠনে পরিবর্তন আসছিল।
কেন্দ্রের হাই-টেক প্রস্তুতি: বিপর্যয় রুখতে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDMA) ১৯৫টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদ চিহ্নিত করেছে এবং ১৫০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে। সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি এমন ৪৭টি বাঁধকে চিহ্নিত করেছে যা এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমানে C-DAC-এর তৈরি স্বয়ংক্রিয় জলযানের মাধ্যমে সিকিমের দুর্গম হ্রদগুলির গভীরতা ও আয়তন মাপা হচ্ছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জম্মু-কাশ্মীর, সিকিমসহ পাহাড়ি রাজ্যগুলির অন্তত ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদে ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ বা আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা বসানোর নির্দেশ দিয়েছে। স্যাটেলাইট নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে।