বকেয়া ডিএ পেলেও মাথায় হাত, আয়কর ছাঁটাইয়ে দিশেহারা সরকারি কর্মীরা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20265:42 pm
রাজ্য সরকারি কর্মীদের পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে ফের গরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। অর্থ দফতর সম্প্রতি বকেয়া ডিএ নিয়ে একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা ঘিরে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে কর্মী মহলে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ-র টাকা মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঠিকই, তবে শর্তে বেঁধে দেওয়া হয়েছে তুলে নেওয়ার নিয়মাবলি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:
- জিপিএফে টাকা জমা: গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ শ্রেণির কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (GPF) জমা হবে।
- আয়করের কোঁপ: জিপিএফ থেকে টাকা তোলার সময়ই আয়কর (Income Tax) বাবদ নিয়ম অনুযায়ী অর্থ কেটে নেওয়া হবে।
- ভুল হিসাবের টাকা কাটা: আগে ভুলবশত কোনো কর্মীকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়ে থাকলে, টাকা তোলার সময় তা হিসাব করে কেটে নেওয়া হবে।
- লক-ইন পিরিয়ড: ২০১৬ থেকে ২০১৯ এবং ২০০৮ থেকে ২০১৫—এই দুই মেয়াদের বকেয়া জিপিএফে জমা হচ্ছে। কিন্তু কর্মরত কর্মীরা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসের আগে এই টাকা তুলতে পারবেন না।
- গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীদের ছাড়: কেবল গ্রুপ ‘ডি’ শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
সংগঠনের প্রতিবাদ: অর্থ দফতরের এই বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষুব্ধ কর্মী মহল। কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, আয়কর কাটা নিয়ে তাঁদের আপত্তির মূল কারণ নয়; কিন্তু ‘ওভারড্রল’ বা ভুল হিসাবের যুক্তি দেখিয়ে টাকা কাটার যে বিধান রাখা হয়েছে, তা অন্যায্য।
তাত্পর্যপূর্ণভাবে, অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী রাজ্য সঠিক বকেয়া হিসাব করেনি বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই সম্পূর্ণ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠন।