চটকল কর্মীদের জন্য দারুণ সুখবর! মিলছে বিনামূল্যে পাকা বাড়ি, এখনই করুন আবেদন!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20266:05 pm
কলকাতা: রাজ্যের পাটকল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। চটকল কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তাঁদের নিজস্ব পাকা বাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ২.০’ (PMAY 2.0)-এর আওতায় এই বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কোন দুই জেলায় শুরু হল পাইলট প্রজেক্ট? প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্য সরকার উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি—এই দুই জেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রকল্পটি চালু করেছে। সূত্রের খবর, খবরটি জানাজানি হতেই ইতিমধ্যেই প্রায় ৮,০০০ শ্রমিক বাড়ি পাওয়ার জন্য তাঁদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে আবেদন জমা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি মিলবে না; আবেদনপত্রগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই ও ভেরিফিকেশনের পরই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।
শ্রমিকের মর্যাদা ও সুরক্ষার বার্তা: রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা কেবল চারদেওয়ালের একটি ঘর বানিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি চটকল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মর্যাদা প্রদান, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার এক মৌলিক প্রয়াস।
কারা পাবেন এই পাকা বাড়ি? (যোগ্যতার মাপকাঠি): প্রকল্পটির আওতায় আসার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলী ধার্য করা হয়েছে:
- আয়ের সীমা: যেসব পাটকল শ্রমিকের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৩ লক্ষ টাকার কম।
- অন্যত্র বাড়ি: দেশের অন্য কোথাও শ্রমিকের নিজস্ব কোনো পাকা বাড়ি থাকা চলবে না।
- বাড়ির আয়তন ও সুযোগ-সুবিধা: প্রস্তাবিত প্রতিটি ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া হবে ৩০ থেকে ৪৫ স্কয়ার মিটার (সর্বোচ্চ ৪৮৫ স্কয়ার ফুট)। এতে অন্তত ২টি রুম, ১টি রান্নাঘর এবং ১টি বাথরুম থাকবে।
- পুরো অর্থই বিনামূল্যে: ৪৮৫ স্কয়ার ফুটের একেকটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫.৫ লক্ষ টাকা হলেও, যোগ্য শ্রমিকদের জন্য এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
জমি চিহ্নিতকরণ ও স্পেশাল ক্যাম্প: প্রকল্পটি দ্রুত রূপায়ণে জমি খোঁজার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভাকে খাস বা উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, হুগলি জেলার শ্রমিকরা যাতে সহজে আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন, তার জন্য লেবার কমিশনারেটের সহায়তায় বিশেষ সহায়তাকেন্দ্র বা শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।