‘এআই’ এখন অতীত, ট্রাম্প আনলেন ‘এসআই’! হোয়াইট হাউসে তোলপাড়
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 20268:50 am
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ভবিষ্যৎ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তাল মার্কিন রাজনীতি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেক প্রধানদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন, যা নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে।
‘AI’ উঠে গিয়ে এলো ‘SI’ বৈঠকে এক চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আর ‘AI’ বলা হবে না, এর নতুন নাম ‘SI’ বা “সুপার ইন্টেলিজেন্স” (Super Intelligence)। ট্রাম্পের মতে, এটি সাধারণ কোনো প্রযুক্তি নয়, বরং মানব ইতিহাসের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।
টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়া সিইও জেনসেন হুয়াং-এর মাঝখানে বসে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানান, গবেষণার গতি কোনোভাবেই কমানো হবে না। কোনো কড়া সরকারি আইনি বাধ্যবাধকতার বদলে টেক সিইও-রা একটি ‘নৈতিক অঙ্গীকারপত্রে’ স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, প্রযুক্তি সংস্থাগুলো নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-পুলিশিং’ করবে।
গবেষকদের আশঙ্কা ও মহা-ঝুঁকি প্রেসিডেন্টের এই স্ব-নিয়ন্ত্রণ নীতিকে তীব্র সমালোচনা করছেন কম্পিউটার সায়েন্সের গবেষকরা। অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হ্যামন্ড সতর্ক করে জানান, সঠিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এআই চালানো মানে ব্রেক ছাড়া গাড়ি চালানো। বিমান, ওষুধ বা খাদ্য শিল্পে কড়া সরকারি নিয়ম থাকলে, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কেন ছাড় দেওয়া হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এমনকি বৈঠকের ঠিক আগেই টেক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ (Anthropic)-এর আইপিও নথি থেকে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য—সংস্থাটি নিজেরাও স্বীকার করেছে যে তাদের তৈরি প্রযুক্তি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই আশঙ্কাগুলোকে বিরোধীদের রাজনৈতিক চাল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
আমেরিকানদের আতঙ্ক ও ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক জুয়া সিএনএন/এসএসআরএস (CNN/SSRS)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে প্রবল উদ্বেগ রয়েছে:
- ৭৫% নাগরিক এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতি নিয়ে আতঙ্কিত।
- ৭১% মানুষ চান যে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকার এআই নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন আনুক।
এআই ডাটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহার সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কর্মসংস্থান হারানোর ভয়ের সাথেই আসন্ন নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তি যুদ্ধে চীনকে টেক্কা দিতে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এক বিরাট রাজনৈতিক জুয়া। যদি তাঁর এই ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণ’ নীতি কাজ করে, তবে তিনি নিজেকে দূরদর্শী প্রমাণ করবেন; কিন্তু কোনো বিপর্যয় ঘটলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পাশাপাশি চরম মাশুল গুনতে হতে পারে পুরো বিশ্বকে।