পুজো মণ্ডপে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, আতঙ্কে কাঁপছে হরিদেবপুর!
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 202612:58 pm
উৎসবের আমেজ চারিদিকে, দিনরাত এক করে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সজ্জার কাজ চালাচ্ছেন শিল্পীরা। তবে সেই উৎসবের আবহেই কলকাতার হরিদেবপুরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে পুজো প্যান্ডেলে তাণ্ডব চালাল একদল দুষ্কৃতী। এই হামলার জেরে ৬৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী হরিদেবপুর অজেয় সংহতি ক্লাবের পুজো আদৌ এবার হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
মাঝরাতে মণ্ডপে তান্ডব ও হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত আনুমানিক ১২টা নাগাদ প্যান্ডেল তৈরির জায়গায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল আচমকাই চড়াও হয়। ক্লাবের সদস্যরা জানান, সেই সময় মণ্ডপে রাতের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ঠিক তখনই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব শুরু করে। বাধা দিতে গেলে ক্লাবের সদস্য তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা অরিজিৎ নন্দীকে রিভলভারের বাঁট দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। ঘটনার প্রমাণ লোপাট করতে মণ্ডপে থাকা দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয় এবং মূল রেকর্ডিং বক্সটি নিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়।
রাজনৈতিক রেষারেষি নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ?
তৃণমূল নেতা অরিজিৎ নন্দীর ওপর হামলার পর ঘটনার রাজনৈতিক মোড় সামনে আসছে। অভিযোগ, কিছুদিন আগে স্থানীয় বিজেপির কয়েকজন প্রতিনিধি অরিজিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি তাতে সায় দেননি। সেই আক্রোশ থেকেই এই পরিকল্পিত হামলা কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলা রাজনৈতিক কারণে নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আতঙ্কে কাঁপছেন শিল্পী থেকে আয়োজকরা
ঘটনার পর থেকেই চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মণ্ডপ তৈরির কাজে যুক্ত শিল্পীরা। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পীযূষ হালদার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যেভাবে মাঝরাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে প্যান্ডেলের কারিগররা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছেন। এমন থমথমে পরিস্থিতিতে পুজো কীভাবে আয়োজন করব, তা বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে, পুজোর অন্যতম সংগঠক প্রীতম সাহা জানান, ঘটনার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সঠিক নিরাপত্তা না পেলে পুজোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হরিদেবপুরের ক্লাব সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কপালে।