বীরসিংহে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর, বিদ্যাসাগর চর্চায় বড় ঘোষণা!

বার্তা ডেস্কঃ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর জন্মভিটে ঘাটালের বীরসিংহে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বীরসিংহ স্মৃতি মন্দিরে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্যদান করার পর ভগবতী হাইস্কুল মাঠের জনসভা থেকে শিক্ষা, উন্নয়ন এবং ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করে পূর্বতন সরকার ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

‘এপাং ওপাং ঝপাং’ বিতর্কে কড়া আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আর ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ বই কিনবেন না। বিদ্যাসাগরের বইগুলো কিনুন, স্কুলের লাইব্রেরিগুলো ভরিয়ে দিন। আগে শুধু ভাষণ হয়েছে, কাজ কিছু হয়নি।” বিগত সরকারের শিক্ষানীতিকে দায়ী করে তিনি জানান, ভুল নীতির কারণেই রাজ্য শিক্ষায় ৩১ নম্বরে পিছিয়ে পড়েছে। এ ছাড়া, আগের সরকারের ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কারের নাম পরিবর্তন করে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষক সম্মাননা’ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যাসাগরকে বাদ দিয়ে শিক্ষা হতে পারে না।

বাল্যবিবাহে জিরো টলারেন্স ও সাহসী ছাত্রীদের সংবর্ধনা রাজ্যে বাল্যবিবাহ রুখতে শুভেন্দু সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জারি রয়েছে। সম্প্রতি দুই মেদিনীপুরে নাবালিকা বিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবককে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। এ দিন বীরসিংহের তিন সাহসী স্কুলছাত্রী—নূপুর চৌরে, শ্রেয়া অধিকারী ও তনুশ্রী সামন্তকে বিশেষ সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তিন ছাত্রী পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দিয়ে এক নাবালিকার বিয়ে ভেস্তে দিয়েছিল। তাদের প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, “ওরা বিদ্যাসাগরের দেখানো পথেই হেঁটেছে।”

বীরসিংহের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মান বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেকে একটি আদর্শ গন্তব্য ও বিশ্বমানের গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • বীরসিংহের রাস্তায় বসবে সোলার লাইট।
  • রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্থানীয় লাইব্রেরির আধুনিকীকরণ করা হবে।
  • গবেষকদের থাকার জন্য বিশেষ কটেজ তৈরি করা হবে, যার জন্য জেলাশাসককে জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১২০০ কোটি টাকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সভার আগে হেলিকপ্টারে ঘাটালের জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা করেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আর শুধু ভাষণে আটকে থাকবে না, এবার বাস্তবে কাজ হবে। এর জন্য ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে, যার ৫০ শতাংশ কেন্দ্র এবং ৫০ শতাংশ রাজ্য বহন করবে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *