বকেয়া DA নিয়ে রাজ্যকে চরম হুঁশিয়ারি, লড়াকু মেজাজে যৌথ মঞ্চ!

বার্তা ডেস্কঃ

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো নিয়ে অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক তীব্র রূপ নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল অসন্তোষ। এই ইস্যুতেই এবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের বিপরীত কাজ! তোপ ভাস্কর ঘোষের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে অর্থ দপ্তরের হিসাব পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন ভাস্কর ঘোষ। তিনি লেখেন, আগে ১০০ ভাগের মধ্যে ৪৩ ভাগ দিয়ে দাবি করা হয়েছিল সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এবার যে হিসেব বের করা হয়েছে, তাতে হয়তো বকেয়ার ১ শতাংশ টাকাও পাবেন না কর্মীরা।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে ভাস্করবাবু জানান, ভুল হিসাব শুধরে সঠিক নিয়মে টাকা মেটানোর কথা নিজেই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু অর্থ দপ্তরের বর্তমান পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। তাঁর পরিষ্কার বার্তা, “তারমানে আবার লড়াই করেই সব ঠিক করতে হবে। আমরা সবসময় প্রস্তুত।” আমলাদের ওপর অতি-নির্ভরতার কারণেই সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।

কী রয়েছে অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া টাকা পর্যায়ক্রমে মেটাচ্ছে রাজ্য। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ শ্রেণির কর্মী ও আধিকারিকদের বকেয়া ডিএ-র দ্বিতীয় কিস্তি জমা হবে তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (GPF)। তবে এই তহবিল থেকে টাকা তোলার সময় কাটা হবে আয়কর। পাশাপাশি, ভুলবশত কাউকে পূর্বে বেশি টাকা দেওয়া হয়ে থাকলে তা ওভারড্রলের যুক্তি দেখিয়ে কেটে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আদালতের কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণের হুঁশিয়ারি

ওভারড্রল ও আয়কর কাটার এই নিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) বা সর্বভারতীয় মূল্যসূচক অনুযায়ী সরকার বকেয়ার হিসাব করেনি, যার ফলে প্রবঞ্চনার শিকার হচ্ছেন কর্মচারীরা। এই অনিয়মের কথা সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির কাছে তুলে ধরা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *