বিশ্বজুড়ে কাঁপন ধরাতে আসছে ‘কাল ভৈরব’, ভারতীয় নৌসেনার নতুন মাইলফলক!
বার্তা ডেস্কঃ
প্রতিরক্ষা খাতে বিরাট সাফল্য অর্জন করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। অটোনমাস আনম্যানড ভেহিকেল ‘কাল ভৈরব’ এবং সোয়ার্ম ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ‘ইয়ামা’ আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য যৌথভাবে তৈরির লক্ষ্যে পর্তুগিজ প্রতিরক্ষা সংস্থা KEYDEF-র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারতের ফ্লাইং ওয়েজ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস। উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের ব্রাগায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা পর্তুগালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পুনিত রায় কুন্দল নিশ্চিত করেছেন। চুক্তির শর্তানুসারে, পর্তুগিজ সংস্থাটি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ৬ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। ফ্লাইং ওয়েজ ডিফেন্সের সিইও সুহাস তেজসকন্দা জানান, ইউরোপীয় বাজারে ভারতীয় প্রকৌশল বিদ্যা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে পর্তুগাল একটি আদর্শ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, চলতি ২০২৬ সালেই এক অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় নৌসেনা। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণে চলতি বছরেই নৌসেনার বহরে রেকর্ড সংখ্যক অন্তত ১৮টি নতুন যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব রণতরী নির্মাণে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স সহ দেশীয় বিভিন্ন কারখানার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ব্যবহৃত উপাদানের ৭৫ শতাংশেরও বেশি সম্পূর্ণ স্বদেশী। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলাকালীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় বাণিজ্যিক ভেসেলগুলোকে সুরক্ষিতভাবে চলাচলে সহায়তা করার জন্য নৌসেনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড্রোন প্রযুক্তি রপ্তানি ও দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত রণতরীর সংযোজন বিশ্বমঞ্চে ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।