ককপিটে রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন, বিমানের দখল নিতে ভয়াবহ ছক?
বার্তা ডেস্কঃ
মাঝআকাশে চলন্ত বিমানে ঘটে গেল এক হাড়হিম ঘটনা! সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’ (Flydubai)-এর FZ1073 ফ্লাইটে আচমকাই ককপিটের ভেতরে ভারতীয় মূলের প্রধান ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালান তাঁর ওমানি সহ-পাইলট। ককপিটের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাপ্টেন লুটিয়ে পড়ার পর বিমানে সৃষ্টি হয় তীব্র আতঙ্ক। সম্প্রতি ইজরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’ সেই ঘটনার ৮ মিনিট ১১ সেকেন্ডের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।
রক্তে ভেসে যাচ্ছে জামা, ভাইরাল ককপিটের বাইরে দৃশ্য প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ককপিটের সামনের মেঝেতে রক্তে ভিজেই শুয়ে রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। শারীরিক কষ্টে ছটফট করতে করতেই তিনি আর্তনাদ করে বলছেন, “আমাকে মেরেছে, অনেক বার মেরেছে… পুরো হাত মুঠো করতে পারছি না।” ককপিটের বাইরে তখন আতঙ্কিত যাত্রীদের ভিড়। বিমানকর্মীরা চিৎকার করে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না জানতে চাইলে ইজরায়েলি ডেন্টিস্ট ডক্টর শোটা মুসায়েভ এগিয়ে আসেন।
১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ক্যাপ্টেন জানা গেছে, বিমানটিতে ক্রু ও যাত্রী মিলিয়ে মোট ১৮০ জন ছিলেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ইজরায়েলি। মাঝআকাশে কো-পাইলট আচমকা আক্রমণ চালালেও চরম বিপদের মুখে আসাম সাহসিকতা দেখান ক্যাপ্টেন স্মিত। তিনি কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সমর্থ হন, যার ফলে সহ-পাইলটের পরিকল্পনা ভস্তে যায় এবং অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচেন ১৮০ জন আরোহী।
সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ ও বন্দি কো-পাইলট ঘটনার পরই জরুরি ভিত্তিতে বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়। সেখানে মেডিক্যাল টিম দ্রুত বিমানে উঠে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে। তবে বিমানের ভেতরেই যাত্রীদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর শেষ অংশে দেখা যায়, ওমানি সহ-পাইলটকে দু’হাত পেছন থেকে শক্ত করে বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং যাত্রীরা চিৎকার করছেন।
৯/১১ ধাঁচে হামলার ছক? এই ঘটনার পেছনে বড়সড় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, ২০০১ সালের ৯/১১ ধাঁচেই বিমান ছিনতাই করে ধ্বংসলীলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল ওই ওমানি সহ-পাইলট। বর্তমানে অভিযুক্তকে সৌদি হেফাজত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিতের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।