ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে পুজোয় কোটি টাকার ব্যবসা, ইডির স্ক্যানারে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি এবং রাজ্য সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে টানা ১০ ঘণ্টা দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) সামনে আনল এক মারাত্মক তথ্য। মাসআর্ট (MassArt) সংস্থার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তে নেমে ইডি-র দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা। যদিও ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, এই টাকা সম্পূর্ণ আইনি পথে ‘রয়্যালটি’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
ইডির তদন্তে উঠে আসা মূল তথ্যসমূহ:
- কোটি টাকার নগদ লেনদেন: ইডির দাবি অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এবং তাঁর সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ জমা পড়েছিল।
- ইউনেস্কোর নাম ও লোগো অপব্যবহার: ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জনসাধারণের কাছ থেকে প্রচুর টাকা সংগ্রহ করে মাসআর্ট। অভিযোগ, বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্যে ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম, পরিচয় ও লোগো বিনানুমতিতে ব্যবহার করে এই সংস্থাকে অনুমোদিত হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।
- দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি: কলকাতার ২৪টি নামী দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রিভিউ শোর আয়োজন করে মাসআর্ট। প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। শুধু ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেই ১ লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি করা হয়। লভ্যাংশের বড় অংশ ব্যাঙ্ক থেকে নগদে তুলে নেওয়া হয় এবং ভুয়ো খরচ দেখিয়ে হিসেব মেলানো হয়।
- ৮৫ কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতির সন্দেহ: ইন্দ্রনীল সেন পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রায় ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক সরকারি টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল ধ্রুবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাগুলিকে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই দু’জনই ইন্দ্রনীলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পরে সেই টাকা ঘুরে যায় প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্নীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন নানা সংস্থায়।
কীভাবে শুরু এই মামলার তদন্ত?
বউবাজার থানায় দায়ের করা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ (BNS)-এর একাধিক ধারায় FIR দায়ের করে। এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও মাসআর্ট-এর সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।
বর্তমানে এই বিপুল অর্থের আসল উৎস কী, কীভাবে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছিল এবং কোন কোন খাতে সেই টাকা পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।