পশ্চিমের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি পুতিনের!

বার্তা ডেস্কঃ

মস্কোয় আয়োজিত ঐতিহাসিক ভালদাই ফোরামে দাঁড়িয়ে পশ্চিমী বিশ্ব ও ন্যাটোকে (NATO) কড়া বার্তা দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ইউরোপের কোনো দেশকে আক্রমণ করার কোনো পরিকল্পনা মস্কোর নেই; রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তবে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড কিংবা পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত কৌশলগত ছিটমহল ‘কালিনিনগ্রাদ’-এ সরাসরি আঘাত আসলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না ক্রেমলিন। সে ক্ষেত্রে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা পরমাণুসহ সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করা হবে।

কেন হঠাৎ কালিনিনগ্রাদ নিয়ে এত তপ্ত বিশ্বরাজনীতি? ভৌগোলিক দিক থেকে কালিনিনগ্রাদ হলো রাশিয়ার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি, যা ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার সীমানা ঘেরা। পুতিন স্বীকার করেন যে, সামগ্রিক সেনা বা সনাতনী অস্ত্রের নিরিখে ন্যাটো রাশিয়ার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বড়। ব্রিটেন কিংবা ফ্রান্সের পরমাণু সক্ষমতা সম্পর্কেও মস্কো সচেতন। তবে একই সাথে তাঁর দাবি, রাশিয়ার হাতে এমন কিছু আধুনিক পরমাণু প্রযুক্তি রয়েছে, যা কৌশলগত প্রতিযোগিতায় মস্কোকে পশ্চিমের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখে।

ন্যাটোর কড়া বার্তা ও কূটনৈতিক উদ্বেগ সম্প্রতি ন্যাটোর কাছে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নোটে মস্কো সতর্ক করেছিল— কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো চেষ্টা করা হলে রাশিয়া পরমাণু জবাব দিতে তৈরি। এই প্রসঙ্গে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। ফলে পরমাণু হামলার এমন হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত।”

‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’-এর আশঙ্কা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলির কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ আনলেও মস্কো তা নস্যাৎ করেছে। তবে পুতিন স্পষ্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উত্তেজনার পারদ যেভাবে চড়ছে, তা এমন এক বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে যেখান থেকে ফিরে আসার বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আর কোনো পথ থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *