সিসিটিভি অকেজো, গ্যাস কাটার দিয়ে মন্দিরের তালা ভেঙে ৪০ লক্ষের গয়না চুরি!
বার্তা ডেস্কঃ
বজ্রপাতে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার সুযোগ নিয়ে শুক্রবার ভোরে এক দুর্ধর্ষ চুরির সাক্ষী রইল পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী মৌতড় কালীমন্দির। গ্যাস কাটার দিয়ে মন্দিরের তালা কেটে দেবীর আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম এই প্রধান শক্তিপীঠে এমন ঘটনার খবর চাউর হতেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশের তৎপরতা ও আটক ৭: খবর পাওয়ার পরেই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছন রঘুনাথপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) রোহেদ শেখ এবং রঘুনাথপুর থানার আইসি অতনু সাঁতরা। এরপর নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তদন্ত চালান পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। পুলিশের প্রাথমিক অভিযানে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এমন মোট সাতজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খোয়া যাওয়া মূল্যবান গয়নাগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কীভাবে সামনে এল এই ঘটনা? মন্দিরের সেবায়েত নটরাজ ভট্টাচার্য জানান, প্রতিদিনের মতো এদিনও ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ দেবীকে স্নান করাতে আসেন সেবায়েতরা। তখনই তাঁদের প্রথম চুরির বিষয়টি নজরে আসে। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা সুকৌশলে মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার কর্মীকে তাঁর ঘরের বাইরে থেকে লক করে আটকে রেখেছিল। পরে সেবায়েতরা গিয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। গর্ভগৃহে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, প্রতিমার বাঁ কান ভেঙে এবং চুল ছিঁড়ে সমস্ত সোনা ও রুপোর অলঙ্কার লুট করা হয়েছে। মেঝেতে শুধু দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে রয়েছে সোনার নথ, রূপোর খড়্গ ও সোনার জিভ। খোয়া গিয়েছে রুপোর ডাকের সাজ, মুকুট, গলার একাধিক হার ও কানের মুণ্ডমালা।
নেই কোনো নিজস্ব পাহারা: আরেক সেবায়েত নির্মাল্য ভট্টাচার্য আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “এই ক্ষতি অঙ্কে মাপা যায় না, এই ঘটনা ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে গভীর আঘাত করেছে।” জানা গিয়েছে, প্রতিদিন দেবীকে বিপুল পরিমাণ গয়না পরানো হলেও মন্দিরে আলাদা কোনো স্থায়ী পাহারাদার বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না।
ঝাড়খণ্ড সংযোগের তদন্ত: তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পাশাপাশি মোবাইল টাওয়ার লোকেশন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দুষ্কৃতীরা ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে গেছে কি না, কিংবা এই ঘটনার পিছনে ভিন রাজ্যের কোনো গ্যাং জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আন্তঃরাজ্য তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। দ্রুত সমস্ত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।