নন্দীগ্রামে মমতার চোট নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু, প্রকাশ্যে আনলেন গোপন রিপোর্ট!

বার্তা ডেস্কঃ

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন মানেই রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনার অধ্যায়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নন্দীগ্রাম। সেই নির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার ঘটনা রাজ্যজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। হুইলচেয়ারে বসে তৃণমূল সুপ্রিমোর সেই প্রচার আজও মানুষের স্মৃতিতে তাজা। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেই ঘটনা নিয়েই এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে সরাসরি এক্স-রে রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তিনি।

কেন নন্দীগ্রাম ছাড়লেন? ব্যাখ্যা শুভেন্দুর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রচারের মঞ্চ থেকে সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য, ভবানীপুর ছেড়ে দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে ফের ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ার রাস্তা খুলে যেত। তাঁর কথায়, “আমি ভবানীপুরটা ছেড়ে দিলে, যাঁকে মানুষ বিতাড়িত করেছে তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন।”

মমতার চোট এবং এসএসকেএম হাসপাতালের রিপোর্ট প্রসঙ্গ এরপরই ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনের সেই বিতর্কিত ঘটনাটি তোলেন শুভেন্দু। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, চক্রান্ত করে তাঁর পায়ে চোট লাগানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে শুভেন্দুর হাত রয়েছে।

পাঁচ বছর পর সেই অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে সেদিন কোনো ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার ঘটনা ঘটেইনি! এসএসকেএম হাসপাতালের একটি এক্স-রে রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে পিজি (SSKM) হাসপাতালে গেছিলাম। এক্স-রে প্লেট রোগী পেয়ে যায়, কিন্তু রিপোর্ট থাকে ডাক্তারের কাছে। আমার কাছে ওই কাগজটা আছে। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী, ওনার ডাক্তাররাই লিখে দিয়েছিলেন— ‘নো ফ্র্যাকচার’। আমার কাছে তা প্রমাণসহ আছে।”

কীভাবে লেগেছিল চোট? শুধু মেডিকেল রিপোর্টের কথাই নয়, ঠিক কীভাবে মমতার পায়ে আঘাত লেগেছিল সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, গাড়ির দরজা একটি লোহার বিমে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে মমতার পায়ে লেগেছিল। সেই সাধারণ আঘাতকেই পরবর্তীতে পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর আগের সেই ঘটনার এই নতুন বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসায় উপনির্বাচনের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র তরজা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *