১৭৪ জনের জীবন বাঁচিয়ে বিশ্ব হিরো হলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত!

বার্তা ডেস্কঃ

দুবাই: মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে ১৭৪ জন যাত্রীকে ফিরিয়ে এনে আজ বিশ্বজুড়ে খবরের শিরোনামে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। ফ্লাইদুবাইয়ের এই ক্যাপ্টেনের সাহসিকতা দেখে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য তাঁকে ফোন করে কুর্নিশ জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুধু তাই নয়, আগামী ১৪ মে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার এবং মশাল প্রজ্বলন করার জন্য স্মিতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর ফোন পাওয়ার আগেই দুবাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারতীয় পাইলটকে দেখতে যান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মক্তুম। হাসপাতালে স্মিতকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন যুবরাজ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “তাঁর সাহস সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মূল্যবোধকেই তুলে ধরে। আমরা এমন একটি দেশ, যারা সর্বদা সহমর্মিতা, শান্তি এবং মানুষের জীবনের পাশে দাঁড়ায়।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্যাপ্টেনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

আসলে সেদিন ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল? গত বুধবার দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি। বিমানে ক্রু ও যাত্রী মিলিয়ে মোট ১৮০ জন ছিলেন, যার বেশিরভাগই ছিলেন ইজরায়েলি নাগরিক। বিমান চালাচ্ছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর এবং তাঁর ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি।

অভিযোগ, মাঝ আকাশে হঠাৎই বিমানটিকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন কো-পাইলট হামাম। বিপদ বুঝতে পেরে সাহসিকতার সঙ্গে তাঁকে বাধা দেন ক্যাপ্টেন স্মিত। আর তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে ককপিটে থাকা ফায়ার এক্স বা কুঠার তুলে স্মিতের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন কো-পাইলট। এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত হওয়ার সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত। সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামামকে কাবু করে ফেলেন।

ক্যাপ্টেন স্মিতের এই তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও অসামান্য সাহসিকতাই সেদিন রক্ষা করেছিল প্রায় পৌনে দু’শো মানুষের প্রাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *