লালু-কেজরির জেল হলে মমতা কেন বাইরে, গ্রেফতারির দাবিতে সরব অগ্নিমিত্রা!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর জমানায় শিক্ষাক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া ব্যাপক দুর্নীতির প্রশাসনিক দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এড়িয়ে যেতে পারেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রের দুর্নীতি নিয়ে তোপ শিক্ষাক্ষেত্রের নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই সময় রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁর আমলেই ঘটে যাওয়া এই অনৈতিক ঘটনার দায় কোনওভাবেই তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। মন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তার দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁর উপরও বর্তায়।’
‘লালু-কেজরিওয়াল জেলে গেলে মমতা কেন নয়?’ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের দাবি তুলে অগ্নিমিত্রা দেশের অন্যান্য হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গ্রেফতারির উদাহরণ টানেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, লালুপ্রসাদ যাদব বা জয়ললিতার যদি জেল হতে পারে, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে কেন আইনি পদক্ষেপ হবে না?
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সে সময়েও বলেছিলাম, ওঁকে গ্রেফতার করতে হবে। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। আমি, আপনি কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—কেউই দেশের আইনকানুনের ঊর্ধ্বে নন। আদালত, পুলিশ এবং সিবিআই (CBI) খতিয়ে দেখুক এই পুরো মামলাটি।’
জনগণের রায়ের প্রসঙ্গ ও আক্রমণ শুধু শিক্ষা দুর্নীতিই নয়, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মমতার সরব হওয়ার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ ও সভা করার অধিকার রয়েছে, তবে দীর্ঘ দিন বাংলার মানুষ যে সুযোগ দিয়েছে, তার সঠিক সদ্ব্যবহার হয়নি।
অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘দুর্নীতি ও ঔদ্ধত্যের মতো বিষয়গুলির জেরে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাংলার মানুষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেন, আর একবার কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছালে তা থেকে সহজে সরে আসেন না।’ মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাপানউতোর শুরু হয়েছে।