অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা গায়েব, শান্তিপুরে ফাঁস বড় জালিয়াতি!
বার্তা ডেস্কঃ
শান্তিপুর: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) সরকারি টাকা পেতে অনলাইন স্ট্যাটাস চেক করতেই প্রকাশ্যে এল বিশাল জালিয়াতি! দরিদ্র ও দিনমজুর পরিবারের আধার তথ্য ব্যবহার করে বিগত ৫ বছর ধরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল নদিয়ার শান্তিপুরে।
কীভাবে সামনে এল জালিয়াতি? নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হলেও দীর্ঘদিন ধরে টাকা পাচ্ছিলেন না আবেদনকারী মহিলারা। বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুরের বাগআঁচড়া ও ছোটকুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শতাধিক মহিলা অনলাইনে স্ট্যাটাস পরীক্ষা করতেই চমকে ওঠেন। দেখা যায়, ভুক্তভোগী মহিলাদের বয়স ৪০ থেকে ৪১ বছরের মধ্যে হলেও, তাঁদের আধার তথ্য অপব্যবহার করে পোর্টালগুলোতে নাকি নিয়মিত ‘বার্ধক্য ভাতা’ প্রদান দেখানো হচ্ছে!
কাদের অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে টাকা? অভিযোগ, ভুক্তভোগী মহিলাদের না জানিয়ে বেআইনিভাবে অজ্ঞাতপরিচয় একাধিক ব্যক্তি ও পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি বার্ধক্য ভাতার টাকা পাঠানো হচ্ছিল। বিগত পাঁচ বছর ধরে ধরে চলা এই প্রতারণার ফলে সিস্টেমে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে মহিলারা এখন নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রশাসনিক যোগসাজশের তীব্র অভিযোগ: এই ঘটনায় বাগআঁচড়া পঞ্চায়েত প্রধান রোহিত দে ও উপপ্রধান রূপালি বিশ্বাস সরাসরি প্রশাসনিক গাফিলতির দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও স্থানীয় অসাধু চক্রের সরাসরি যোগসাজশ ছাড়া এমন বড় মাপের তথ্য জালিয়াতি হওয়া আসাম্ভব। ছোটকুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য প্রতিনিধি সুজিত সাহাও স্বীকার করেছেন যে বহু বছর ধরে গোপনে এই কারচুপি চলছিল।
বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ ও হুলস্থুল: ঘটনাসংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিডিও (BDO)-র কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি বেআইনিভাবে নেওয়া সমস্ত সরকারি টাকা রাজকোষে ফেরানো এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। নিজেদের বকেয়া টাকা ও অধিকার ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ মহিলারা।