মিলন প্রধানের জামিন মামলায় রাজ্যকে তুলোধোনা শীর্ষ আদালতের!
বার্তা ডেস্কঃ
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে আইনি লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনে আপাতত কোনো স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে মঙ্গলবারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মিলন প্রধানের সামনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ আদালত সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জামিন বাতিলের আবেদন জানালেও, আদালত উল্টে রাজ্যের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০০৭ সালের পুরনো একটি মামলায় জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও এতদিন পুলিশ কেন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করে শীর্ষ আদালত। এমনকি প্রয়োজনে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।
ভোটের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা আগামীকাল, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। তাই নির্বাচনের ঠিক মুখে প্রার্থীকে প্রচার ও লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করে আদালত। শীর্ষ বেঞ্চের বার্তা, আপাতত তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হোক এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে দেওয়া হোক। আগামী ৭ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
‘রাজ্যের চক্রান্ত ব্যর্থ’, তোপ কংগ্রেসের সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “ভোটের আগের দিন আমাদের প্রার্থীকে চক্রান্ত করে গ্রেফতার করানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই অপচেষ্টা সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গেল।”
ভোটের দিনের আইনি জটিলতা কাটলেও, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের পুরনো এই মামলাগুলি ঘিরে জলঘোলা অব্যাহত রইল।