ফর্ম ৬ বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের অস্বস্তি, সুপ্রিম কোর্টের তোপে ফাঁস পর্দা!
বার্তা ডেস্কঃ
কথায় বলে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না’। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটল। সুপ্রিম কোর্টে ৬ নম্বর ফর্ম (Form 6) সংক্রান্ত মামলায় উঠে এল এক বিস্ফোরক তথ্য, যা কমিশনের দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে আগেই দাবি করা হয়েছিল, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উড়িয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার একতরফা সিদ্ধান্তে ৬ নম্বর ফর্মে আপত্তিকর শর্ত চাপিয়েছিলেন। তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বিষয়টি আরও বড় আকার ধারণ করল।
গত ২৬ সেপ্টেম্বরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR)-এর জন্য ‘ফর্ম ৬’-এর সঙ্গে যুক্ত করা অতিরিক্ত স্বঘোষণাপত্রটিকে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়— ফর্ম ৬-এ কোনও রকম রদবদল বা নতুন শর্ত যোগের নির্দেশ বা অনুমতি শীর্ষ আদালত কখনওই দেয়নি!
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া কার নির্দেশে ১৯৬০ সালের ‘ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা’ অনুযায়ী নির্ধারিত বিধিবদ্ধ ফর্মে এই পরিবর্তন আনা হলো?
এই চরম বিভ্রান্তি নিয়ে সরব হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই চরম অসঙ্গতিই প্রমাণ করছে কোথাও একটা গভীর গলদ রয়েছে। আসল প্রশ্ন হলো, দেশকে বিভ্রান্ত করছে কে? সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের এমন দ্বিমুখী আচরণে সাধারণ ভোটারের অধিকার ও নিরাপত্তা কোথায়?”
ভুয়ো বা মৃত ভোটার বাদ দেওয়ার অজুহাতে অনলাইনে নতুন শর্ত যুক্ত করায় বহু বৈধ নাগরিকের নাম বাদ পড়া বা ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠিয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে। আদালতের ইঙ্গিত, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়ে থাকলে পুরো SIR প্রক্রিয়াতেই স্থগিতাদেশ দেওয়া হতে পারে। মহালয়ার দিন দিল্লিতে মহাআন্দোলনের প্রস্তুতির মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।