১৫ বছরের প্রথায় ইতি! কলকাতার দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে কি এবার শুভেন্দু?
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: দেড় দশকের পুরনো চেনা ছবিতে হঠাৎ ছন্দপতন! শহর কলকাতার দুর্গাপুজো বলতেই এতদিন যাঁর নাম সবার আগে উঠে আসত, সেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার অধিকাংশ বড় পুজো কমিটিই উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানায়নি। বদলে রাজধানীর হাইপ্রোফাইল পুজোমণ্ডপগুলোতে উদ্বোধক হিসেবে ডাক পাচ্ছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বদলাচ্ছে ঐতিহ্য ও পুজোর সমীকরণ ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর দেড় শতাধিক পুজোর মণ্ডপ ফিতে কেটে শুভসূচনা করতেন মমতা। দক্ষিণ কলকাতার ক্লাবে সশরীরে যাওয়ার পাশাপাশি ভার্চুয়ালি জেলার পুজো উদ্বোধনও করতেন তিনি। কিন্তু গত ৪ মে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পুজো উদ্বোধনের যাবতীয় অংক বদলে গিয়েছে।
কোন পুজোয় কী পরিবর্তন?
- চেতলা অগ্রণী: ফিরহাদ হাকিমের এই পুজোয় দীর্ঘদিন ধরে দুর্গা প্রতিমার চোখ আঁকতেন মমতা। এবার কিন্তু চিত্রনাট্য আলাদা। বহু বছরের প্রথা ভেঙে চেতলা অগ্রণীর পুজো উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- হিন্দুস্থান পার্ক দুর্গোৎসব: প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই পুজোতেও শুভেন্দুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
- ত্রিধারা সম্মিলনী: দেবাশিস কুমারের পরিচালনাধীন এই হাইপ্রোফাইল ক্লাবটিও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেই উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
- একডালিয়া এভারগ্রিন: প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের এই ক্লাবে গত কয়েক বছর মমতা উদ্বোধন করলেও, এবার তারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের পুজো উদ্বোধন করবেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের দিলীপ মহারাজ।
কী বলছেন পুজো উদ্যোক্তারা? কালীঘাটের বাসভবনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঠিক কতগুলি পুজোর আমন্ত্রণপত্র এসেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মমতা-ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতার কথায়, “হাইপ্রোফাইল না হলেও দক্ষিণ কলকাতার কিছু ছোট পুজো উদ্যোক্তা নেত্রীকে উদ্বোধক হিসেবে চেয়েছেন।”
অন্যদিকে, উত্তর কলকাতার এক বর্ষীয়ান পুজো কর্তার সাফ ব্যাখ্যা— “যিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকেন, প্রথা অনুযায়ী তাঁকেই আমন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আগেও তা-ই হতো, এখনও তা-ই হচ্ছে।”
ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথেই কলকাতার পুজো উৎসবের ফিতে কাটার চেনা সমীকরণেও যে বড়সড় বদল ঘটে গেল, তা একপ্রকার নিশ্চিত।