দুর্গাপুজোর মালিকানা কার? জটিলতা কাটাতে লটারির শরণাপন্ন হাইকোর্ট!
বার্তা ডেস্কঃ
শারদোৎসবের দিন গোনা শুরু হলেও নিউটাউনের সিসি (CC) ব্লকের দুর্গাপুজোর দায়িত্ব কার হাতে থাকবে— তা নিয়ে বিবাদ চরমে পৌঁছেছে। দুই আয়োজক গোষ্ঠীর টানাটানিতে তৈরি হওয়া জটিলতা শেষ পর্যন্ত গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। কোনো পক্ষের দীর্ঘদিনের কোন্দলে কান না দিয়ে, লটারির মাধ্যমে পুজো কমিটির ভাগ্য নির্ধারণের এক অভিনব নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত।
কেন ভেস্তে গিয়েছিল অনুমতি? ঘটনার সূত্রপাত হিডকো (HIDCO)-র একটি জমিকে কেন্দ্র করে। সেখানে দুর্গাপুজো আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকা এবং এনকেডিএ (NKDA)-র কাছে নির্দিষ্ট বার্ষিক খরচের হিসাব জমা না দেওয়ায় প্রশাসন পুজোর অনুমোদন বাতিল করে দেয়। এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। ওই জায়গায় পুজো আয়োজনের অধিকার দাবি করে মুখোমুখি দাঁড়ায় ‘সিসি ব্লক রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ এবং স্থানীয় অধিবাসীদেরই অপর একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী।
হাইকোর্টের পথনির্দেশ: আদালতে মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নিরপেক্ষ ও বিকল্প সমাধানের পথ হাঁটেন। তিনি নির্দেশ দেন, কোনো দাবির ভিত্তিতে নয়, নিরপেক্ষ লটারির মাধ্যমেই ঠিক করা হবে চলতি বছরে কার পরিচালনায় পুজো অনুষ্ঠিত হবে। গোটা লটারি প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এস্টেট ম্যানেজারকে। লটারির ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে সিসি ব্লকের বাসিন্দারা শেষ পর্যন্ত কোন গোষ্ঠীর পরিচালনায় মণ্ডপে অঞ্জলি দেবেন।
পুলিশি নজরদারির নির্দেশ: শুধু আয়োজক নির্ধারণই নয়, উৎসবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে হাইকোর্ট। লটারির ফলাফলকে কেন্দ্র করে বা পুজোর দিনগুলোতে যাতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে এলাকা জুড়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।