প্যারিসের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য!
বার্তা ডেস্কঃ
প্যারিসে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা খাতে বাজেট ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ দিন দিন আরও অগ্নিগর্ভ রূপ নিচ্ছে। তবে ফ্রান্সের এই উত্তাল পরিস্থিতিকে কেবল শিক্ষা সংক্রান্ত আন্দোলন হিসেবে মানতে নারাজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অশান্তির পেছনে ‘উগ্র ইসলামপন্থী চক্রান্ত’ এবং ‘অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি’কে দায়ী করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেন, এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য আদতে স্কুল-কলেজের পরিবেশ উন্নয়ন নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা। তিনি লেখেন, “পুরোটাই অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতির ব্যর্থতার চরম ফল। উগ্র ইসলামপন্থীরা একটি মহান দেশকে নিজেদের দখলে নেওয়ার চক্রান্ত করছে।” ফ্রান্সের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুরো ইউরোপকেই নিজেদের সীমান্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি একধাক্কায় বাড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ফ্রান্সের এই সংকটের সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগে। প্যারিসের একটি হাইস্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে প্রথম রাজপথে নামেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ধীরে ধীরে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়তে থাকে। শ্রেণিকক্ষের জরাজীর্ণ অবস্থা, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং শিক্ষা বাজেটে সরকারি কোপের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ শিক্ষার্থী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। দফায় দফায় ক্লাস বয়কট, স্কুল গেটে অবরোধ ও মিছিলের কারণে অন্তত ৫০০টি স্কুল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি আন্দোলন চলাকালে প্রায় ২৪টি স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে।
ইউরোপের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্য ট্রাম্প বরাবরই অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনকে কাঠগড়ায় তুলে এসেছেন। আগামী নভেম্বরে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ (MAGA) শিবির ফ্রান্সের এই অশান্তিকে নিজেদের অভিবাসন-বিরোধী প্রচারের মূল হাতিয়ার করছে। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল বিশ্লেষকদের মতে, প্যারিসের এই দাঙ্গা গোটা পশ্চিমী বিশ্বের জন্য এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনি মেরুকরণের অংশ হিসেবেই ট্রাম্প শিবির এখন অভিবাসন ও চরমপন্থা-বিরোধী বক্তব্যকে আরও জোরালো করে তুলছে। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নিয়ে ফ্রান্স সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।