বরখাস্ত শিক্ষকদের মুখে হাসি, সুদে-আসলে সব টাকা ফেরতের নির্দেশ হাইকোর্টের!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট (ডিএসপি) পরিচালিত স্কুলগুলির চুক্তিভিত্তিক বা প্যারা-টিচারদের বেআইনিভাবে বরখাস্ত করার মামলায় কর্তৃপক্ষকে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভুক্তভোগী সমস্ত শিক্ষককে সুদসহ বকেয়া ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে হবে।

মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণ দেয়, এমএ ও বিএড-এর মতো উচ্চশিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের গৃহপরিচারিকাদের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। সেখানে ছিল না কোনও নির্দিষ্ট ছুটি বা ন্যায্য পারিশ্রমিক। সমাজে শিক্ষকদের স্থান অতীব গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তাঁদের দৈনিক ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হলো, তা নিয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের শিক্ষাদান বা নিয়মে কোনও ঘাটতি বা অসততা ছিল না।

মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০০৯ সালে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ডিএসপি পরিচালিত স্কুলগুলিতে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে তাঁদের নিয়োগ করা হয়। দীর্ঘকাল নামমাত্র দৈনিক মজুরিতে কাজ করার পর, ২০১৫ সালে শিক্ষকরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) দাবিতে পিএফ কমিশনারের দ্বারস্থ হন। পিএফ কমিশনার শিক্ষকদের পক্ষে রায় দিয়ে তাঁদের ডিএসপি-র কর্মী হিসেবে গণ্য করে পিএফ প্রদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু এর পরেই প্রতিহিংসামূলকভাবে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকদের বরখাস্ত করে।

পরবর্তী সময়ে বিষয়টি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (ক্যাট) হয়ে হাইকোর্টে গড়ায়। ইতিমধ্যে ডিএসপি পরিচালিত সেই স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের পুনর্বহাল করা সম্ভব নয় বলে আদালত জানায়। ফলে বিকল্প হিসেবে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২০০৯ সালে চাকরিতে যোগদানের দিন থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরের হিসাব ধরে শিক্ষকপিছু বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকা হারে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এই ক্ষতিপূরণের সঙ্গে যুক্ত হবে বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদ। ডিএসপি কর্তৃপক্ষকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে টাকা না মেটালে সুদের হার বেড়ে দাঁড়াবে ১২ শতাংশ। হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই নির্দেশ শুধু মামলাকারীদের জন্যই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সমস্ত শিক্ষকের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *