‘আমাদের ওপর খুব ক্ষুব্ধ ওঁরা’, কেন ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ?

বার্তা ডেস্কঃ

পৈতৃক ভিটে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের বাবুপট্টি গ্রামের মানুষের কাছে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি)-র মঞ্চে প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন। সম্প্রতি কেবিসির হট সিটে প্রতাপগড়ের প্রতিযোগী চন্দ্র প্রকাশ তিওয়ারি বসলে কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে অমিতাভের বাবা, প্রখ্যাত কবি ডঃ হরিবংশ রায় বচ্চনের জন্মভূমি বাবুপট্টির নাম। আর তখনই স্মৃতিমেদুর ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিগ বি।

শো- চলাকালীন অমিতাভ জানান, পূর্বপুরুষদের সেই ভিটেতে তাঁরা ভালো কিছু কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নানা বাধা-বিপত্তির কারণে তা শেষ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সেখানকার মানুষ আমাদের ওপর খুব ক্ষুব্ধ। আমরা প্রতাপগড় ও বাবুপট্টির মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি।” একই সঙ্গে তিনি গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে শীঘ্রই গ্রামের লাইব্রেরিটি পুনরায় চালু করা হবে।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে প্রায় দু’দশক আগের এক ইতিহাস। বচ্চন পরিবারের দান করা জমিতে লাইব্রেরি নির্মাণের জন্য ২০০৪ সালে তৎকালীন সাংসদ প্রয়াত সি.এন. সিং ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। ২০০৬ সালের ৫ মার্চ অভিনেত্রী জয়া বচ্চন ও প্রয়াত রাজনীতিবিদ অমর সিং গিয়ে সেই ভবনের উদ্বোধন করেন। তৎকালীন সময়ে জয়া বচ্চন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, পুত্র অভিষেক বচ্চনের বিয়ের পর তিনি অমিতাভ ও পুত্রবধূ ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে নিয়ে গ্রামে আসবেন এবং গ্রামে মেয়েদের জন্য একটি ডিগ্রি কলেজও খোলা হবে।

তবে উদ্বোধনের পর প্রায় ২০ বছর কেটে গেলেও সেই লাইব্রেরিতে একটি বইও পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক ও পারিবারিক উদাসীনতায় ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় ভেঙে পড়ছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ ছিল, বিগ বি কেবল টিভির পর্দাতেই গ্রামের কথা বলেন, বাস্তবে প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। তবে কেবিসি-র মঞ্চে অমিতাভের এই আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং লাইব্রেরি পুনরায় চালুর নতুন প্রতিশ্রুতিতে ফের আশার আলো দেখছেন বাবুপট্টির বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *