আকাশে ভারত এখন অপ্রতিরোধ্য, সুখোই-ব্রহ্মোসের অদম্য পরাক্রমে কাঁপছে শত্রুদেশ!

বার্তা ডেস্কঃ

হিন্ডন এয়ার বেস: ৯৪তম বায়ুসেনা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে ভারতের আকাশসীমার দুর্ভেদ্য সুরক্ষা ও অপারেশানাল প্রস্তুতির এক রোমহর্ষক চিত্র সামনে এল দিল্লির অদূরে হিন্ডন এয়ার বেস থেকে। শত্রুপক্ষের হৃৎকম্পন বাড়িয়ে ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের অন্যতম প্রধান শক্তি—সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) ফাইটার জেটের সঙ্গে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের নিখুঁত ইন্টিগ্রেশনের এক্সক্লুসিভ ছবি প্রকাশ্যে এনেছে।

প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ব্রহ্মোস-সুখোই কম্বো অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল মিশনে পাক ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে সুনির্দিষ্ট নিশানায় আঘাত হানতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। এয়ার বেসের এই শক্ত প্রদর্শনী প্রমাণ করে যে, দেশের সামরিক বাহিনী যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তির মেলবন্ধন

হিন্ডনের মেগা প্রদর্শনীতে কেবল সুখোই-ব্রহ্মোসই নয়, নজর কেড়েছে ফরাসি প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বমানের রাফেল যুদ্ধবিমানও। এটি এসসিএএলপি (SCALP), মিকা এবং মেটিওর মিসাইলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। এর পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরে প্রদর্শিত হয়েছে একাধিক দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম:

  • তেজস (Tejas): ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট।
  • এলসিএইচ প্রচণ্ড (LCH Prachand): হালকা ও শক্তিশালী আক্রমণকারী হেলিকপ্টার।
  • আকাশ (Akash): সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম।
  • রোহিণী (Rohini): অত্যাধুনিক নজরদারি রাডার।

বিদেশি প্রযুক্তির ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে ভারত যে আজ নিজস্ব কম্ব্যাট প্ল্যাটফর্ম ও নিখুঁত স্ট্রাইক ক্ষমতার জোরে বিশ্বমঞ্চে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে উঠে দাঁড়িয়েছে, এই প্রদর্শনী তারই স্পষ্ট বার্তা।

সুখোই-৩০ এমকেআই: ভারতের দুর্ভেদ্য আকাশ-দুর্গ

রাশিয়ার বিখ্যাত সুখোই কো ম্পা নির নকশায় এবং ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (HAL)-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি সুখোই Su-30MKI একটি অত্যন্ত ভারী, সর্ব-আবহাওয়ায় সক্ষম এবং দীর্ঘ পাল্লার মাল্টিরোল ফাইটার জেট। বিমানে যুক্ত দুটি শক্তিশালী এএল-৩১এফপি (AL-31FP) টার্বোফ্যান ইঞ্জিন থ্রাস্ট-ভেক্টরিং প্রযুক্তির সাহায্যে ম্যাক ২.০ (শব্দের দ্বিগুণ) গতিবেগ অর্জন করতে পারে।

কোনো ধরনের জ্বালানি না ভরেই এই যুদ্ধবিমানটি প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম, যা আকাশে ভাসমান অবস্থায় ‘মিড-এয়ার রিফুয়েলিং’-এর মাধ্যমে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়া যায়। বিমানের ১২টি হার্ডপয়েন্টে সর্বোচ্চ ৮ টন পর্যন্ত ভয়ঙ্কর অস্ত্রশস্ত্র (যেমন ব্রহ্মোস এবং বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল) বহনের ক্ষমতা রয়েছে। রাশিয়া, ভারত, ইসরায়েল, ফ্রান্স ও দক্ষিণ আফ্রিকার অত্যাধুনিক মিশন সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত এই মাল্টিমিডিয়া কম্ব্যাট প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ভারতীয় আকাশসীমাকে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *