দিল্লিতে চরম কড়াকড়ি, নাগরিক অধিকার রক্ষায় গর্জে উঠল সুপ্রিম কোর্ট!
বার্তা ডেস্কঃ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে নজিরবিহীন উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের চরম বিধিনিষেধ এবং গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ার ঘটনায় শীর্ষ আদালতের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে প্রশাসন।
আদালতে আমজনতা ও আন্দোলনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল, গোপাল শঙ্করনারায়ণন, বৃন্দা গ্রোভার এবং প্রশান্ত ভূষণ। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানান তাঁরা।
আইনজীবীদের ক্ষোভ ও জোরালো সওয়াল: শুনানি চলাকালীন ক্ষুব্ধ প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল প্রশ্ন তোলেন, “সব ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, মেট্রো স্টেশন বন্ধ, নিজামুদ্দিন স্টেশন অবরুদ্ধ—মানুষের কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। এমনকি আবাসিক এলাকাগুলোতেও বাইরে বের হতে বারণ করা হচ্ছে! একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে আমার দেশে আজ এসব কী হচ্ছে? এটি আমাদের দেশ, এখানে এমন পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হতে পারে?”
আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ করেন, পুরো দিল্লি শহরকেই কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে জানান, দিল্লির প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের এই চরম সিদ্ধান্তের ফলে কেবল বিক্ষোভকারীরাই নন, বরং দিল্লি-এনসিআর (NCR) এলাকার প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্টের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, প্রয়োজন মনে করলে দিল্লি হাইকোর্টকে বিকেল ৩টার মধ্যেই বিষয়টি শুনানির নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, নাগরিকদের যেমন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, তেমনই বৃহৎ জনগোষ্ঠীরও দৈনন্দিন প্রাথমিক পরিষেবা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য থাকা জরুরি। তবে প্রশাসন যেভাবে মাত্রাতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে, তাতে একধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয় আদালত।
শুনানির শেষ পর্বে শীর্ষ আদালত আইনজীবীদের দুপুর ২টায় প্রয়োজনীয় নথি ও বিস্তারিত তথ্যসহ পুনরায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং জনজীবনের সুরক্ষার এই টানাটানির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র দেশ।