ইউক্রেনকে অন্ধকারে রেখে ট্রাম্পের ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’! জেলেনস্কির তোপ— ‘আমার কাছে নতুন খবর’
বার্তা ডেস্কঃ
ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার— এমন মন্তব্য করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ইউক্রেনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ট্রাম্প দাবি করলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন নাকি একটি বিশেষ ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’তে (Energy Ceasefire) সম্মত হয়েছে! অর্থাৎ, দুই দেশ একে অপরের তেল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আর কোনো হামলা চালাবে না। তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। তাঁর উপহাসমূলক মন্তব্য, “খবরটা আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন, তবে শুনে ভালো লাগল!”
রবিবার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিলম্বে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, উভয় পক্ষই এতে রাজি হয়েছে। একই সাথে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, “এই নিয়ম কেউ ভাঙবেন না!” তবে এই যুদ্ধবিরতি কতদিনের জন্য কিংবা এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানাননি তিনি। এমনকি হোয়াইট হাউস বা ক্রেমলিন— কোনো পক্ষ থেকেই এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা আসেনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর সাংবাদিক সম্মেলনে জ়েলেনস্কি জানান, “খবরটা আমার জন্য একদমই নতুন। যদি রাশিয়া সত্যিই জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়, তবে ইউক্রেনও প্রস্তুত। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতি ঠিক কখন থেকে শুরু হচ্ছে, দয়া করে আমাদের জানান!” জ়েলেনস্কি আরো জানান, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজ্যান্ডার স্টাবের সাথে ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছেন।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি পরিকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন জ়েলেনস্কি। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার পরই কিয়েভের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং খারকিভের একাধিক জ্বালানি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত এই ‘যুদ্ধবিরতি’ বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
পাশাপাশি, রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহের সুযোগ করে দিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম দুর্বলতা’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন জ়েলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর আরো বেশি আগ্রাসন চালানোর সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের পাল্টা অভিযোগ— বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইউক্রেন নিজেই দায়ী।