শান্তিনিকেতনের বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের নতুন নাম জানলে অবাক হবেন!

বার্তা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে গেরুয়া প্রলেপ পড়ার পাশাপাশি অনেক স্থান থেকেই মুছে গেছে ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো। এবার সেই হাওয়াই শান্তিনিকেতনের প্রান্তিকে তৃণমূল আমলে তৈরি ‘বিশ্ববাংলা শিল্পী হাট’-এর খোলনলচেও বদলে গেল। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট’। শুধু তাই নয়, স্থানীয় হস্তশিল্পীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

তৃণমূল আমলের ২০১৪ সালে প্রান্তিকের এই শিল্পী হাটের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হস্তশিল্পীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি এই হাটে আধুনিক বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে আসা শিল্পীদের থাকার জন্য আধুনিক আবাসনের বন্দোবস্ত রয়েছে। এখানে স্থায়ীভাবে প্রায় ১৩০ জন শিল্পী তাঁদের তৈরি হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রি করার সুযোগ পান। হাটের সামনের দিকে প্রায় ৭০টি এবং ভেতরের দিকে আরও ৩০টি দোকান রয়েছে।

এত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত প্রচার এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করার নানা উদ্যোগের অভাবে এতদিন বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটটি তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দফতর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুজোর পরপরই একদম নতুন রূপে হাটটিকে চালু করা হবে। পাশাপাশি, শিল্পীদের বিক্রিবাট্টা বাড়িয়ে আর্থিকভাবে লাভবান করতে আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত মোট ছ’টি রাজ্যস্তরের হস্তশিল্প মেলা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

দফতর সূত্রে খবর, এই মেলাগুলির মাধ্যমে হস্তশিল্পীদের তৈরি চমৎকার জিনিসপত্র আরও বেশি সংখ্যক ক্রেতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্পীদের আয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, তেমনই স্থানীয় যুবসমাজ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট’ রাখা হয়েছে। শিল্পীদের সার্বিক কল্যাণের কথা মাথায় রেখে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ছ’টি রাজ্যস্তরের হস্তশিল্প মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা একদিকে যেমন শিল্পীদের প্রভূত উপকার করবে, তেমনই হাটটির প্রচারও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।”

উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতনে সারা বছরই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে, বিশেষ করে সোনাঝুরির খোয়াই হাটে পর্যটকদের ঢল নামে। তবে শিল্পীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, এর ঠিক পাশেই অবস্থিত প্রান্তিকের শিল্পী হাটে সেই তুলনায় ক্রেতাদের দেখা মিলত না। এবার সেই বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট) সুদিন ফেরাতে এবং একে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে রাজ্য সরকারের এই বড় পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *