যাদবপুরে টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের দাপট, মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারে কাঁপছে রাজনীতি!
বার্তা ডেস্কঃ
কুঁদঘাটের এক বর্ণাঢ্য জলাশয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক সাফল্য যেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার দুই সদস্যা—মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং নেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। বিশেষ করে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, দফতরে বসে ফাইল ঘাঁটার পাশাপাশি তিনি সবসময় রাজপথে মানুষের পাশে থাকেন, আর এই কারণেই একটি বিশেষ মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে!
অগ্নিমিত্রাকে নিয়ে অপপ্রচার ও ট্রোল নিয়ে কড়া বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে সমস্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে ট্রোল করার চেষ্টা চলছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, একদল কুচক্রী মানুষ কেবল মোবাইল হাতে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর চক্রান্ত করছে। তবে এই সমস্ত নেতিবাচক আক্রমণকে পাত্তা না দিয়ে অগ্নিমিত্রাকে নির্ভয়ে নিজের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি বলেছি, ওদের ইগনোর করুন, এগিয়ে যান। সরকার আপনাদের পাশেই আছে।” একই সঙ্গে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামী কলকাতা পুরসভা নির্বাচনেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটবে।
যাদবপুরের রাজনীতি ও অন্যান্য বিশিষ্টদের ভূমিকা
এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে যাদবপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের সাহসিকতারও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে যাদবপুরকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রবাদী ভাবধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন শর্বরী। আর তাঁর এই কর্মকাণ্ড দেখেই তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ এখন রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্ত।
পাশাপাশি, লোকশিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত পাপিয়া অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, বাংলার গ্রামের মানুষ যাত্রা জগৎ বলতেই একমাত্র পাপিয়া অধিকারীকেই চেনেন। এলাকার মানুষ তাঁকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করায় তিনি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনসাধারণকে কৃতজ্ঞতা জানান। সেইসঙ্গে অনেক তথাকথিত বড় মাপের মন্ত্রীকে কীভাবে এলাকার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
নতুন জলাশয় উদ্বোধন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ
এ দিনের অনুষ্ঠানে ‘শিব জলাশয়’ এবং ‘শক্তি জলাশয়’ নামের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার পুজো সংখ্যা ‘পুজোশ্রী’-র মোড়ক উন্মোচন নিয়েও আলোচনা হয়। নিউ টাউনে একটি অত্যাধুনিক পাঁচতারা হোটেলের উদ্বোধন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, বিগত সরকার রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে হোটেলটি চালু হওয়ায় এলাকার প্রায় ১,০০০ বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আসন্ন দুর্গাপুজো প্রসঙ্গে পঞ্জিকা মেনেই সমস্ত পুজো অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও, পিতৃপক্ষে কাউকে জোরজুলুম করতে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষার কথা জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।