সুপ্রিম কোর্টে মোক্ষম আইনি চাল, সিজেআই-এর সাক্ষাৎ না মেলায় বড় পদক্ষেপ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের!
বার্তা ডেস্কঃ
প্রধান বিচারপতির সরাসরি সাক্ষাতের অনুমতি না মিললেও আইনি লড়াইয়ের পথ থেকে পিছপা হলো না বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পরামর্শ মেনেই দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে রিট পিটিশন দাখিল করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দায়ের হওয়া এই মামলাটি ঘিরে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
একমঞ্চে ১১ শীর্ষ বিরোধী মুখ
সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া এই হাই-প্রোফাইল আবেদনে কেবল রাহুল গান্ধী একা নন, স্বাক্ষর করেছেন বিরোধী জোটের একঝাঁক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
- কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে
- তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়
- সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব
- আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব
- শিবসেনা (UBT) নেতা সঞ্জয় রাউত
- সিপিএম নেতা এম এ বেবি ও সিপিআই নেতা ডি রাজা
- ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেত্রী মহুয়া মাঝি
- এনসিপি (শরদ পাওয়ার) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে
ইতোমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির ডায়েরি নম্বরও বরাদ্দ বা জেনারেট হয়ে গিয়েছে।
পিটিশনের মূল দুই বিস্ফোরক দাবি
সর্বোচ্চ আদালতে জমা দেওয়া এই যৌথ পিটিশনে প্রধানত দুটি বড় দাবি তুলে ধরেছেন বিরোধীরা: ১. SIR প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল: দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নানান অনিয়ম ঘটেছে বলে অভিযোগ। এই প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও তা বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে। ২. মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ: পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর আবেদন করা হয়েছে।
আইনি জটিলতা ও নেপথ্যের রাজনৈতিক কৌশল
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিরোধী জোটের এই দুই দাবির ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিল আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সংবিধান অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে শীর্ষ আদালত সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না; তাঁর অপসারণের জন্য সংসদে দীর্ঘ ইমপিচমেন্ট (Impeachment) প্রক্রিয়া অনুধাবন করা আবশ্যক।
তবে সবটা জেনেও বিরোধীরা কেন এই ঝুঁকিপূর্ণ আইনি পথ বেছে নিলেন? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী কৌশল। কারণ এই মামলাটির পেছনে আইনি পরামর্শক হিসেবে সলিল মেলাচ্ছেন কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিংভির মতো দেশের প্রথম সারির আইনজীবী ও আইনি মস্তিষ্কের অধিকারীরা। ফলে আদালতের বারান্দায় এই মেগা আইনি যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর পুরো দেশের।