এক বছরেই শিল্পের নতুন হাব বাংলা, হলদিয়া থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার শিল্প শহর হলদিয়ার এক মঞ্চ থেকে সেকথাই আরও একবার জোরালো ভাষায় স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
হলদিয়ার উন্নতিতে মাস্টারপ্ল্যান ও বিপুল কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি হলদিয়ার ইতিহাস ও নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমি এখানকার সাংসদ এবং চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই সময় প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে ‘হিডেন চ্যানেল’ চালু করেছিলাম, আজ তার সুফল পাচ্ছেন হলদিয়ার বাসিন্দারা। চ্যানেলটি পুরোদমে কার্যকর থাকায় এখানকার পোর্ট-নির্ভর শিল্পগুলো নির্বিঘ্নে কাজ করে চলেছে।”
রাজনৈতিক জীবনের মধ্যবর্তী সময়কাল এবং বর্তমান সরকারের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, “মাঝখানে কিছুদিন আমি ক্ষমতার বাইরে ছিলাম, বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করেছি। আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও সরাসরি উন্নয়নের কাজে যুক্ত থাকতে পারিনি। তবে আজ আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি—মঞ্চে আমাদের মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মুখ্যসচিব স্বয়ং উপস্থিত আছেন। হলদিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় শিল্প শহর। এর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আমরা সবরকম পদক্ষেপ করব।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “হলদিয়া কেবল পশ্চিমবঙ্গের লাইফলাইন নয়; প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান এবং ভারতের একাধিক রাজ্য এই পোর্টের ওপর নির্ভর করে। তাই হলদিয়ার অগ্রগতি মানেই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের উন্নয়ন।”
‘দেওয়ালির আগেই আসছে নতুন শিল্পনীতি’ রাজ্যে শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পুজোর ছুটি শেষ হলেই আগামী ২৮ তারিখ হরিণঘাটায় রিলায়েন্সের ‘ক্যাম্পা কোলা’ প্রকল্পের ভূমিপুজো অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস হলো। আমি কথা দিচ্ছি, এক বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ দেশ-বিদেশের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত হবে। আমাদের মন্ত্রীদের একটি দল ইতিমধ্যেই নতুন শিল্পনীতির খসড়া জমা দিয়েছেন। দেওয়ালির আগেই এই নতুন ও সময়োপযোগী ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’ জনগণের সামনে আনা হবে।”
অতীতের ভুল শুধ্রে ‘প্রো-ইন্ডাস্ট্রি’ বাংলা গড়ার ডাক বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার অতীতের নেতিবাচক নীতি গ্রহণ করবে না। তাঁর কথায়, “আমরা দুটো কাজ একদম করব না—এক, বাম আমলের ৩৪ বছরের উগ্র ট্রেড ইউনিয়ন, ঘন ঘন ধর্মঘট, কারখানায় তালা ঝোলানো এবং ম্যানেজমেন্টকে মারধরের সংস্কৃতি, যার জেরে ৫০ হাজারের বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর দুই, বিগত ১৫ বছরের ‘ডুয়ার্স ল্যান্ড পলিসি’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’, যার কারণে বাংলায় কোনো নতুন শিল্প আসেনি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ৩৪ বছর এবং ১৫ বছরের সেই পুরনো তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে এক সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশ তৈরি করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য—জনকল্যাণমুখী এবং শিল্পবান্ধব এক সুস্থ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা।”