কোথায় সেই নেতারা, বর্ধিত ডিএ নিয়ে ভাস্কর ঘোষের তীব্র কটাক্ষ!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: উৎসবের মৌসুমে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য খুশির আবহ। কেন্দ্রে ও রাজ্যের বকেয়ার বৈষম্য কমাতে সম্প্রতি সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) ২০% বৃদ্ধি করেছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, পুজোর কেনাকাটা ও অন্যান্য খরচের কথা মাথায় রেখে নবান্নের তরফ থেকে অগ্রিম বেতন ও পেনশন প্রদান করা হচ্ছে।

তবে এরই মাঝে অনুদানপ্রাপ্ত বা ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ (Grant-in-Aid) কর্মচারীরা এই বর্ধিত ডিএ পাবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষামহলে নানান চর্চা ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সমস্ত সংশয় কাটিয়ে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সরকার পোষিত ও গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরাও এই ২০% অতিরিক্ত মহার্ঘ ভাতার সমান সুবিধা পাবেন।

এই ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। ভুয়ো খবর ছড়ানো নেতাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি ফেসবুকে লেখেন, “যেসব কর্মচারী নেতা এই মাসের বর্ধিত DA গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা পাবেন না বলে গুজব ছড়াচ্ছিলেন, আজ তাদের প্রতিক্রিয়া কী?”

ভাস্করবাবুর এই পোস্টে নেটিজেন ও সরকারি কর্মীদের মন্তব্য উপচে পড়েছে। কেউ খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “দাদা, ওরা তো পিটিশন দিয়েছে DA নেবে না বলে!” আবার কেউ বকেয়া পাওনার আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, “আমাদের মূল লড়াই ছিল রোপা-৯ (ROPA-9) এর বকেয়া নিয়ে। সাধারণ সরকারি কর্মচারীরা রোপা-৯ এর আংশিক টাকা পেলেও, আন্দোলনের জন্য মামলা লড়া শিক্ষকরা এখনও এক পয়সাও পাননি।” ওই কর্মীর আরও বক্তব্য, সামনেই নতুন পে কমিশন রয়েছে, তাই এই ২০% ডিএ পেয়ে আত্মতুষ্ট হওয়ার কিছু নেই; বকেয়া আদায়ে পুনরায় রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ পেতে শুরু করলেও, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা এখনও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে ষষ্ঠ পে কমিশনের এই বর্ধিত ডিএ তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে কিনা, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে পুজোর মুখেই মোট ৩৮% ডিএ সহ অগ্রিম বেতন পেয়ে বড়সড় আর্থিক স্বস্তি পেতে চলেছেন গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও শিক্ষকরাও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *