ধর্মান্তরিত হলেই শেষ সংরক্ষণের সুবিধা! সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন রায়
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: ধর্মান্তরিত হওয়ার পর যাঁরা জাতিগত সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করে আসছিলেন, তাঁদের জন্য এক বড় ধাক্কা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে কেউ যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তবে তিনি আর সংবিধান অনুযায়ী কোনও ধরনের সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন না।
এর মাধ্যমে মাদ্রাজ হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়কেই বহাল রাখল শীর্ষ আদালত। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল যে— অনগ্রসর শ্রেণি (BC), অতি অনগ্রসর শ্রেণি (MBC) এবং তফসিলি জাতির (SC) আওতাভুক্ত কোনও ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলেও তাঁকে ‘অনগ্রসর শ্রেণির মুসলিম’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে তামিলনাড়ু সরকারের সেই সরকারি নির্দেশিকা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে গেল।
⚖️ বিচারপীঠের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানিতে দুটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:
- সামাজিক অনগ্রসরতা স্থানান্তরিত হয় না: বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থা ত্যাগ করে কেউ অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে, তাঁর ধর্মান্তরের আগের সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে আর কোনো বিশেষ সুবিধা বা কোটা দাবি করা যায় না।
- নতুন ধর্মে জাতিগত পরিচয়ের বিলোপ: আদালতের মতে, পুরনো সামাজিক ব্যবস্থার জাতিগত অনগ্রসরতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ধর্মে স্থানান্তরিত হয় না। তাই নতুন ধর্মে প্রবেশ করে পুনরায় ‘অনগ্রসর শ্রেণি’র মর্যাদা দাবি করা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
📜 সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও আদালতের যুক্তি:
সংবিধানের নীতি তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্ট ‘সংবিধান (তফসিলি জাতি) আদেশ, ১৯৫০’-এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে। এতে স্পষ্ট বলা আছে—
“হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ব্যতীত অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণকারী কোনও ব্যক্তিকেই তফসিলি জাতির (SC) সদস্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না।”
আদালতের যুক্তি অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি অন্য ধর্ম (যেমন ইসলাম) গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর পূর্ববর্তী ‘তফসিলি জাতি’র মর্যাদা আইনত বিলুপ্ত হয়। ফলে সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে সরকারি চাকরি বা শিক্ষায় সংরক্ষণের যে সুযোগ তিনি পাচ্ছিলেন, ধর্মান্তরের পর তা চিরতরে হারাবেন।
সাংবিধানিক এই সমস্ত নীতিকে মূল ভিত্তি করে তামিলনাড়ু সরকারের পেশ করা আবেদনটি চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।