রণক্ষেত্রে অচল স্টারলিঙ্ক, এলন মাস্কের ওপর চড়াও বিশ্ব!

বার্তা ডেস্কঃ

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করার উদ্যোগ এবং রিলায়েন্স ও ভারত সরকারের সাথে মাস্কের সংঘাতের খবর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ শোরগোল ফেলেছিল। কিন্তু সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজের পাতা কৌশলের ফাঁদেই যেন আছড়ে পড়লেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের এলন মাস্ক।

ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে এলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX)-এর ‘স্টারলিঙ্ক’ (Starlink) স্যাটেলাইট পরিষেবা ব্যবহারে চরম বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

🛑 রাতের অন্ধকারে গতি হ্রাস: বিপাকে ইউক্রেনীয় সেনা

ইউক্রেন সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১৩ এবং ১৪ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে যখন ইউক্রেনীয় সেনা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ও নজরদারি চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই হঠাৎ স্টারলিঙ্কের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রধান উপদেষ্টা সের্গি বেসক্রেস্তনোভ জানান, একক সিদ্ধান্তে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এই পরিষেবা ধীরগতির করে দেওয়া হয়। এর ফলে ইউক্রেনীয় সেনার:

  • ড্রোন হামলা ও ইন্টারসেপ্টর ড্রোন পরিচালনা ব্যাহত হয়।
  • সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা থমকে যায়।
  • কৌশলগত সীমান্ত নজরদারির কাজে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

🏛️ রাজনৈতিক চাল নাকি আন্তর্জাতিক চাপ?

সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বন্ধ করতে মার্কিন রাজনৈতিক মহলের (বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের) পরোক্ষ চাপ কাজ করে থাকতে পারে।

তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এলন মাস্ক জানান:

“সাধারণ ‘স্টারলিঙ্ক’ আর সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত ‘স্টারশীল্ড’ (Starshield) এক নয়। স্টারলিঙ্ক মূলত একটি বেসামরিক পরিষেবা। অন্যদিকে স্টারশীল্ডের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মার্কিন সেনার হাতে থাকে, তাই যোগাযোগের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও তাদেরই।”

⚠️ পোল্যান্ডের তোপ ও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লো সিকোরস্কি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) সরাসরি মাস্ককে ট্যাগ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—মাস্ক কি তবে নিজের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক পণ্য ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন? তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, ইউরোপে মাস্কের বিশাল গ্রাহকশ্রেণী এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের ওপর কড়া নজর রাখছে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন সেনা যে স্টারলিঙ্ক ব্যবহার করে, তার সিংহভাগ খরচ বা সাবস্ক্রিপশন ফি বহন করে পোল্যান্ড সরকার। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একজন বেসরকারি ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা মর্জির ওপর একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত? এই ঘটনা নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে আন্তর্জাতিক বিষেশজ্ঞদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *